ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

ব্যাংকের আমানত থেকে বড় আয় পুঁজিবাজারের তিন কোম্পানির

২০১৯ জানুয়ারি ০৬ ২২:৪৯:১৫
ব্যাংকের আমানত থেকে বড় আয় পুঁজিবাজারের তিন কোম্পানির

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব তিন কোম্পানি পদ্মা ওয়েল, যমুনা ওয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মূল ব্যবসা হল জ্বালানি তেল বিপণন ও বাজারজাতকরণ। পাশাপাশি লুব্রিক্যান্ট, এলপি গ্যাস ও কৃষি কীটনাশক পণ্য থেকেও কিছু আয় আসে এসব কোম্পানির। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ব্যাংকে রাখা আমানত থেকে পাওয়া সুদই মুনাফার সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠছে কোম্পানিগুলোর। বিভিন্ন ব্যাংকের আমানত থেকে পাওয়া সুদের টাকায় ভাসছে এসব কোম্পানি। যা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বড় লভ্যাংশও দিচ্ছে তারা। প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আমানত ব্যাংকগুলোতে অলস পড়ে থাকলেও বেসরকারি তেল কোম্পানিগুলোর মতো ব্যবসা বহুমুখীকরণে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি থেকে পরিচালন আয় কিছুটা বাড়লেও তা নগণ্য; মুনাফার সিংহভাগই আসছে অপরিচালন আয়-বিশেষ করে ব্যাংকে গচ্ছিত আমানতের সুদ থেকে। সর্বশেষ হিসাব বছরে বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানি তিনটির প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে, যার থেকে সুদবাবদ আয় থেকে নিট মুনাফা হয় ৯৭৬ কোটি টাকা।

বিভিন্ন ব্যাংকে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৪৭৭ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত ও এক হাজার ৩৯১ কোটি টাকার স্বল্পমেয়াদি আমানত রয়েছে।

এ ছাড়া নগদ জমা আছে দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা। সব মিলে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বিগত বছরগুলোর চেয়ে ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর সুদ আয়ে উল্লম্ফন দেখা গেছে।

২০১৭-১৮ হিসাব বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সুদ আয় ছিল ৩৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২০৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক বছরে কোম্পানির সুদ আয় বেড়েছে ৬২ শতাংশ। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সুদ আয় ছিল ২২০ কোটি টাকা। চলতি প্রথম প্রান্তিকে সুদ আয় আরো বাড়ায় নিট মুনাফাও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের পরিচালন মুনাফা হয় ১৫২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর সঙ্গে সুদসহ অপরিচালন আয় ৩৩৮ কোটি টাকা যোগ হওয়ার পর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩৬০ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত হিসাব বছরে পেট্রোলিয়াম পণ্য পদ্মা অয়েলের পরিচালন মুনাফা হয় ১৪৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। একই সময়ে সুদবাবদ আয় হয় ৩১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৬৬ শতাংশ বেশি। সুদসহ অপরিচালন আয় যোগ করে ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানির করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়ায় ৪৭১ কোটি টাকা।

মুনাফায় কর্মচারীদের হিস্যা ও কর দেওয়ার পর পদ্মা অয়েলের নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৩৩৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে কোম্পানির যে নিট মুনাফা হয়েছে, তা বিগত বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

পদ্মা অয়েলের এফডিআর রয়েছে ৪২২ কোটি টাকার। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যাংকে শর্ট নোটিস ডিপোজিট (এসএনডি) ও নগদ হিসেবে তিন হাজার ১৬৬ কোটি টাকা জমা রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির সুদ আয় হয়েছে ৬৭ কোটি টাকা, যা পরিচালন মুনাফার চেয়ে ১৩০ শতাংশ বেশি।

গত হিসাব বছর শেষে ছয় মাস পার হলেও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি যমুনা অয়েল। তবে সর্বশেষ হিসাব বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা অনুযায়ী, কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ২৮১ কোটি টাকা; অপরিচালন আয় হয় ২৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যার ৯৩ শতাংশই হচ্ছে সুদ আয়। এ হিসেবে গত হিসাব বছরে সম্ভাব্য সুদ আয় হচ্ছে ২৯৮ কোটি টাকা।

গত হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকে যমুনা অয়েলের স্বল্পমেয়াদি আমানত ছিল এক হাজার ৩১৮ কোটি টাকা; নগদ জমা রয়েছে দুই হাজার ২৪৭ কোটি টাকা, যার বড় অংশই শর্ট নোটিস ডিপোজিট হিসেবে রাখা হয়। ব্যাংকে জমা এসব আমানত থেকেই সুদ আয় হয়ে থাকে।

এ ছাড়া এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডে বড় বিনিয়োগ রয়েছে যমুনা অয়েলের, যা থেকে বছরে প্রায় ১৬ কোটি টাকা লভ্যাংশ আসে।

বেসরকারি জ্বালানি খাতের কিছু কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছে। দেশে প্রায় ১৪টি বেসরকারি কোম্পানি গ্যাস উপজাত পরিশোধনের মাধ্যমে তেল (পেট্রল/অকটেন) উৎপাদন করছে। এলপিজিতেও বড় ধরনের বিনিয়োগে যাচ্ছে বেসরকারি খাত। লুব্রিক্যান্ট বেল্ডিং কারখানাও দেশে হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর প্রচুর অর্থ ব্যাংকে অলস পড়ে থাকলেও ব্যবসা বহুমুখীকরণে তাদের উদ্যোগ কমই দেখা যাচ্ছে।

পদ্মা অয়েলের কোম্পানি সচিব বলেন, ‘ব্যবসা সম্প্রসারণের কিছু সুযোগ আমাদের রয়েছে এবং সে চেষ্টাও চলছে। অ্যাগ্রো কেমিক্যালের ব্যবসা আমরা করছি।

যদিও সেখান থেকে তেমন মুনাফা আসছে না। তবে পদ্মা অয়েলের পরিকল্পনা রয়েছে অটো গ্যাসে বিনিয়োগ করার। আমরা মনে করছি, যেহেতু গ্যাসের সরবরাহ অপ্রতুল, তাই আগামীতে সিএনজির পরিবর্তে অটো গ্যাসের বড় চাহিদা তৈরি হবে। তাই এ খাতের বিনিয়োগ লাভজনক হবে মনে করছি।’

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে