ঢাকা, রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ৭ মাঘ ১৪২৫

প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ পুঁজিবাজারের ৮ ব্যাংক

২০১৮ ডিসেম্বর ১২ ২২:১৮:৩৪
প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ পুঁজিবাজারের ৮ ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ ৮ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এই ৮ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হল-এবি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৫২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর বাইরে রাইট অফ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল করা হয়েছে প্রায় একলাখ কোটি টাকার মতো। এসব ঋণ খেলাপি হলেও তা খেলাপি দেখাতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভিশন সংরক্ষণে ঘাটতি রয়েছে রূপালী ব্যাংকের। সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৫২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া এবি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ঘাটতি ৯৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২৬১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৯৬ কোটি ৭১ লাখ কোটি টাকা, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ১০২ কোটি ২৯ লাখ টাকা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৬২ কোটি ২১ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি আরো ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তালিকায় অন্তভুক্ত রয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো- বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড।

প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যাংকগুলোর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৬৬ কোটি ৮১ লাখ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের ৪২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।

উল্লেখ্য, আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন রাখতে হয় নির্ধারিত হারে। সাধারণ ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভিশন রাখার নিয়ম রয়েছে। আর যথাসময়ে ঋণ আদায় না হওয়া নিম্নমান, সন্দেহজনক ও মন্দ বা ক্ষতি অর্থাৎ শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে যথাক্রমে ২০, ৫০ ও ১০০ ভাগ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। প্রভিশন সংরক্ষণে ঘাটতি বা না পারলে কোনও ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এর বাইরে রাইট অফ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল করা হয়েছে প্রায় একলাখ কোটি টাকার মতো। এসব ঋণ খেলাপি হলেও তা খেলাপি দেখাতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রভিশন ঘাটতির কারণে শুধু ব্যাংকই যে বিপাকে পড়ছে তা নয়, আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও বিপদ। সাধারণত কোনও ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিলে মূলধনেও টান পড়ে। আর মূলধন ঘাটতিতে পড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ওই ব্যাংক বছর শেষে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও দিতে পারে না।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে