ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ৫ বীমা কোম্পানি

২০১৮ ডিসেম্বর ০৯ ০৭:০০:২৫
ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ৫ বীমা কোম্পানি


বিভিন্ন সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে ১২টি বেসরকারি জীবন বিমা কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে। লাইফ ফান্ডের আকার বিবেচনায় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে ডেল্টা লাইফ, ন্যাশনাল লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফসহ পাঁচটি কোম্পানি। ওই পাঁচ কোম্পানির লাইফ ফান্ডে সর্বনিম্ন প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা থেকে সর্বোচ্চ পৌনে চার হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এ পাঁচ কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফ ও রূপালী লাইফসহ বাকি সাত কোম্পানি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। মূলত আইন লঙ্ঘন, গ্রাহক হয়রানি, মানুষের আস্থাহীনতা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তির কারণে বিতর্কের মুখে কোম্পানিগুলোই লাইফ ফান্ডের আকারের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন শেষে জীবন বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির লাইফ ফান্ড তিন হাজার ৬৭৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা ওই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে পেছনে ফেলে এবার সেই স্থান দখল করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রায় ৫.৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির জেরেই এবার এগিয়েছে কোম্পানিটি। গত জুন শেষে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯৩ কোটি তিন লাখ টাকা।

এক ধাপ পিছিয়ে এবার তৃতীয় অবস্থানে নেমে গেছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের বর্তমান আকার তিন হাজার ২৮৮ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় কোম্পানিটির ওই তহবিলের আকার ছিল তিন হাজার ২৩৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে জীবন বিমা কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জীবন বিমার প্রতি সাধারণ মানুষের অনাগ্রহ, বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দক্ষ-প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতিসহ বেশ কিছু কারণে জীবন বিমা কোম্পানিগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। পুরোনো কোম্পানিগুলো ভালো করছে। এর বিপরীতে সিংহভাগ কোম্পানিই পিছিয়ে পড়ছে। প্রতিবন্ধকতার কারণে বাধ্য হয়ে কোম্পানিগুলোকে লাইফ ফান্ডের অর্থে ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে।

ডেল্টা, ফারইস্ট আর ন্যাশনাল লাইফের সঙ্গে এগিয়েছে জীবন বিমা খাতের আরেক কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের আকার জুন শেষে দুই হাজার ২৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এগিয়ে থাকা অপর কোম্পানি মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ডের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৫৫৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

তথ্যমতে, লাইফ ফান্ডের আকারের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বিতর্কিত কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের আকার গত জুন শেষে ২১২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় নেমেছে। এর আগের বছরও ওই ফান্ডের আকার ছিল প্রায় ২৭৩ কোটি তিন লাখ টাকা। বাড়তি ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বোঝা আর বিমা দাবি পরিশোধের চাপে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে কোম্পানিটি।

এদিকে তালিকাভুক্ত বাকি ছয় কোম্পানির মধ্যে সন্ধানী লাইফের ৮৫২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফের ৮২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, প্রগতি লাইফের ৫২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, রূপালী লাইফের ৪৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা, সানলাইফের ৩৩০ কোটি এক লাখ টাকা ও প্রগ্রেসিভ লাইফের ২৭০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা লাইফ ফান্ড রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিমা গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রিমিয়াম হিসেবে নেওয়া অর্থের একটি অংশ ভবিষ্যতে দাবি পরিশোধে প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। এটিই ‘লাইফ ফান্ড’ বা ‘জীবন বিমা তহবিল’ নামে পরিচিত। ওই অর্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) নির্দেশিত খাতে বিনিয়োগ করা হয়। গ্রাহকের বিমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ে লাইফ ফান্ড অন্যতম মানদণ্ড। তাই প্রতিষ্ঠার পর থেকেই লাইফ ফান্ডের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আইডিআরএ। তারপরও বিমা দাবি পরিশোধ ও বাড়তি ব্যয়ের চাপে সিংহভাগ কোম্পানির লাইফ ফান্ডের প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। আর নতুন প্রজন্মের সিংহভাগ কোম্পানিই ফান্ডের আকার বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে