ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

কেপিসিএল উদ্যোক্তার এক ঘোষণায় শেয়ারবাজারে তোলপাড়

২০১৮ নভেম্বর ০৯ ০৬:৫৩:৪৪
কেপিসিএল উদ্যোক্তার এক ঘোষণায় শেয়ারবাজারে তোলপাড়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি খুলনা পাওয়ার লিমিটেডের উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রির এক ঘোষণা শেয়ারবাজারে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটিই একক ঘোষণায় বড় অঙ্কের উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রির ঘটনা। গত ৪ অক্টোবর (রোববার) কো্ম্পানিটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সামিট করপোরেশন পাবলিক মার্কেটে ১ কোটি ৮০ লাখ (কেপিসিএলের ৫ শতাংশ) শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দরে অস্বাভাবিক পতন নেমে আসে। এমনকি কোম্পানিটির অস্বাভাবিক দরপতন গোটা বাজারকেই নেতিবাচক পথে নিয়ে যায়। এমনি অবস্থায় প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ ৭ অক্টোবর (বুধবার) কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এরপর বিষয়টি নিয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেন। ডিএসই এবং ব্রোকারস এসোসিয়েশনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জোর দাবি তোলেন। এক পর্যায়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানায়, সামিটের পক্ষ থেকে যদি আগের ঘোষণা সংশোধন করে পাবলিক মার্কেটের পরিবর্তে ব্লক মার্কেটে বিক্রির ঘোষণা দেয়, তাহলেই খুলনা পাওয়ারের লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হবে। এদিকে, সামিটের এত বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ভালোভাবে নেয়নি।

জানা যায়, খুলনা পাওয়ারের মূল উদ্যোক্তা সামিট ও ইউনাইটেড গ্রুপ। উভয়ের মালিকানা সমান ৩৫ শতাংশ করে। কারও কাছেই নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার (মোটের অন্তত ৫১ শতাংশ) নেই। কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার অধিগ্রহণে আগ্রহী ইউনাইটেড। গ্রুপটি সামিটের শেয়ারের পাশাপাশি পাবলিক শেয়ারের বড় অংশ কিনে নিতে চায় বলে নানা গুজব বা গুঞ্জন আছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামিটের ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব শুধু খুলনা পাওয়ারের শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না, আরও বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারেও পড়ে। অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্সেরও পতন হয়। দেখা গেছে, রোববার ও সোমবারের বাজারে সূচকটির একক কোম্পানি হিসেবে খুলনা পাওয়ারের সর্বাধিক ভূমিকা ছিল। এ দু'দিনে ডিএসইএক্স ৩৪ পয়েন্ট হারায়। খুলনা পাওয়ারের দরপতনেই সূচকটি খুইয়েছিল ১৪ পয়েন্ট।

কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সামিট বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ঘোষণায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। তবে এটা সত্য, এমন ঘোষণায় বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানের শিকার হয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ এবং শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, যখন তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যথেষ্ট সময় দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে পাবলিক মার্কেটে বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা রেখে আইন করা উচিত। কোম্পানি নির্বিশেষে অন্তত সংশ্নিষ্ট কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫ শতাংশের বেশি পাবলিক মার্কেটে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাবলিক মার্কেটের পরিবর্তে ব্লক মার্কেটে বিক্রির শর্ত দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ কত শেয়ার এবং ঘোষণার কতদিন পর বিক্রি করতে পারবে, সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আইন করা যেতে পারে।

ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমানও এ মতকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, খুলনা পাওয়ারের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও হতে পারে। তাই এর পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের অন্তত ১৫ দিন আগে ঘোষণা দেওয়ার এবং শুধু ব্লক মার্কেটে শেয়ার বিক্রির বিধান করার জন্য ডিএসই কাজ করবে বলে জানান তিনি।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে