ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

৩০০ কোটি টাকা ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে বিএসসি

২০১৮ নভেম্বর ০৭ ২২:০৫:৫২
৩০০ কোটি টাকা ভ্যাট অব্যাহতি পাচ্ছে বিএসসি

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনকে (বিএসসি)বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিএসসিকে ৬টি জাহাজ কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে কোম্পানিটির ৩শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার এনবিআর ভ্যাট অব্যাহতি সংক্রান্ত বিএসসির ৬টি আবেদনে সম্মতি দিয়েছে। এর ফলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানটিকে আলোচিত জাহাজগুলো কেনার জন্য কোনো ভ্যাট দিতে হবে না।

এনবিআরের ভ্যাট পলিসির সেকেন্ড সচিব তারিক হাসান জানিয়েছেন, শিপিং করপোরেশনের ক্যাপাসিটি শক্তিশালী করতে এবং এ খাতকে সক্রিয় করতে বিএসসি’র ৬টি জাহাজ আমদানিতে ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে।

জানা যায়, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের জুন মাসে সমুদ্রগামী সাহাজ আমদানিতে নীতি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে শর্তসাপেক্ষে জাহাজ আমদানিকে ভ্যাটমুক্ত ঘোষণা করা হয়।শর্ত অনুসারে,ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেতে হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের পণ্য পরিবহণ সক্ষমতা হতে হবে কমপক্ষে ৫ হাজার ডিডব্লিউটি।অন্যদিকে ওই জাহাজের বয়স হতে হবে ২২ বছরের চেয়ে কম। অর্থাৎ জাহাজটি ২২ বছরের চেয়ে বেশি পুরনো হলে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাওয়া যাবে না।

বিএসসি গত ৩০ জুলাই ৬টি জাহাজ আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার জন্য এনবিআরের কাছে আবেদন জানায়। ওই আবেদন এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের প্রেক্ষিতে এনবিআর প্রতিষ্ঠানটিকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, প্রায় ২৭ বছর পর বিএসসি নতুন জাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় চিন থেকে ৬টি জাহাজ কেনা হচ্ছে। চিনের জিয়াংজু নিউ ইয়াংজি শিপবিল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড জাহাজগুলো নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে ‘বাংলার জয়যাত্রা’নামে একটি জাহাজ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের বহরে যুক্ত হয়েছে।বাকি জাহাজগুলোর নাম হচ্ছে-বাংলার অগ্রযাত্রা,বাংলার সমৃদ্ধি, বাংলার অগ্রদূত, বাংলার অর্জন ও বাংলার অগ্রগতি।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, চিন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ‘জিটুজি’র ভিত্তিতে এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জাহাজ ৬টি কেনা হচ্ছে। এতে চিন সরকার দিচ্ছে এক হাজার ৪৪৮ কোটি এবং বিএসসি দিচ্ছে ৩৯৫ কোটি টাকা। এই ৬টি জাহাজের মধ্যে ৩টি অয়েল ট্যাংকার ও ৩টি বাল্ক ক্যারিয়ার।প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা ৩৯ হাজার টন (ডিডব্লিউটি)।

এক সময় বিএসসির বহরে ৩৬টি জাহাজ ছিল, বর্তমানে রয়েছে ২টি। নতুন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বহরে যোগ হওয়ায় মোট জাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো তিনটি।

গত ২৪ এপ্রিল চিনের শিপইয়ার্ডে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটির লঞ্চিং ও নামকরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর প্রায় তিন মাসে পর ১৩ জুলাই চিনের জিয়াংজু নিউ ইয়াংজি শিপবিল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড বিএসসি’র কাছে জাহাজজটি হস্তান্তর করে।

জাহাজটি চীন থেকে পণ্য বোঝাই করে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারতের কয়েকটি বন্দরে যায়। এরপর সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ওমান, সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত ঘুরে গত ২ অক্টোবর বাংলাদেশে আসে।

বাংলার জয়যাত্রা জাহাজটি লম্বায় ১৮০ মিটার, প্রস্তে ৪০ মিটার, গভীরতা (ড্রাফট) ৯ মিটার এবং ১৪ থেকে ১৬ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। আধুনিক এই জাহাজটিতে রয়েছে ইলেক্ট্রনিক চার্জ সিস্টেম।

জানা গেছে, দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্য পরিববহনে বছরে জাহাজভাড়া বাবদ প্রায় ৭শ কোটি ডলার ব্যয় হয়। এতে দেশীয় জাহাজ কোম্পানিগুলোর হিস্যা মাত্র ২ শতাংশ। বিএসসির বহরে বাকি জাহাজগুলো যুক্ত হলে এই হিস্যা বেশ কিছুটা বাড়বে। তাতে রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচবে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে