ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বর্তমানে ঘোলাটে অবস্থানে দেশের পুঁজিবাজার

২০১৮ নভেম্বর ০৭ ০৬:৫৯:১৬
বর্তমানে ঘোলাটে অবস্থানে দেশের পুঁজিবাজার

অর্থনীতির সূচকগুলো যেভাবে এগোচ্ছে তার বিপরীত দিকে যাচ্ছে পুঁজিবাজার। অর্থাৎ অর্থনীতির সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলছে না পুঁজিবাজার। আবার দেখা গেছে যে, সরকারি গবেষণায় ২৭৪ বিলিয়ন ডলার এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের গবেষণায় ২৫০ বিলিয়ন ডলার দেশের অর্থনীতি। এত বড় দেশের অর্থনীতি সেখানে পুঁজিবাজারের সূচক পাঁচ হাজার ২০০ মাত্র। আসলে এটি কাম্য নয় এবং এভাবে চলতে পারে না। এমন মন্তব্য করেছেন, একাত্তর টেলিভিশনের বিজনেস এডিটর কাজী আজিজুর ইসলাম।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিডিনিউজের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদক আবদুর রহিম হারমাছি এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট সাইফ ইসলাম দিলাল।

আজিজুর ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দাম কোনো কারণ ছাড়াই অতিমাত্রায় বেড়ে যাচ্ছে, সে তুলনায় মৌলভিত্তি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ছে না বরং কমে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং বাজার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। এটি কী কারণে হচ্ছে বা কারা করছে এ বিষয়গুলো বিএসইসি ও ডিএসইকে পর্যালোচনা করতে হবে এবং তাদের জবাবদিহিতায় আনতে হবে। যখন বিএসইসি ও ডিএসইসহ আরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের কার্যাবলিগুলো ভালোভাবে সম্পাদন করছে এবং সেগুলো বিনিয়োগকারীর কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। তখনই বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আসবে। আসলে সর্বোপরি বলতে গেলে পুঁজিবাজার সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজারের প্রতি তেমন সক্রিয়তায় নেই। অর্থাৎ সক্রিয়তার অনেক অভাব রয়েছে।

অন্যদিকে আবদুর রহিম হারমাছি বলেন, বর্তমানে ঘোলাটে অবস্থানে রয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। এ সময়ে পুঁজিবাজার এ অবস্থানে থাকার কথা নয় কারণ দেশের সার্বিক অর্থনীতির সব সূচকগুলো ইতিবাচক রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পুঁজিবাজার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনীতির সব সূচক ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও সে তুলনায় পুঁজিবাজারের অবস্থা নগণ্য। সামনে নির্বাচন। নির্বাচন এলে পুঁজিবাজারে এর একটি প্রভাব পড়ে। তবে আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সার্বিকভাবে একটি ভালো পরিস্থিতিতে রয়েছে। বিশেষ করে হরতাল, অবরোধ এ বিষয়গুলো এখন নেই। আবার কোম্পানিগুলোর যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তা কিন্তু তেমন খারাপ বলা যাবে না। সার্বিকভাবে বলা যায় যে, এ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই পুঁজিবাজার খারাপ অবস্থায় থাকার কথা নয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত বা কৃত্রিমভাবে পুঁজিবাজরকে একটি ঘোলাটে অবস্থা সৃষ্টি করছে কি না, এ ব্যাপারে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসইসহ আরও যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে তাদের ভালোভাবে পর্যালোচনা করে দেখা উচিত বলে মনে করি।

বর্তমানে পুঁজিবাজার যে অবস্থায় রয়েছে এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, তবে এর চেয়ে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে এবং প্রতিদিন ৩০০ কোটি টাকার পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। আবার সঞ্চয়পত্রের ওপর ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিচ্ছে। অর্থাৎ তারা নির্দিষ্ট সময়ে একটি প্রফিট পাবে। দেশের জনগণের কাছে টাকার কোনো সমস্যা নেই। এখন কথা হচ্ছে যে, বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারে কেন যাবে কারণ বিনিয়োগে যাওয়ার মতো সেই অবস্থায় পুঁজিবাজারে নেই। অর্থাৎ এ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হলে বাজার একটি ভালো অবস্থানে যাবে মনে করি।

অন্য আলোচক সাইফুল ইসলাম দিলাল বলেন আসলে বর্তমানে পুঁজিবাজার মোটেই ভালো যাচ্ছে না। আবার যে শেয়ারের দাম বাড়ার কথা সেটি বাড়ছে না। আর যে শেয়ারের দাম বাড়ছে সেটি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। আবার অন্যদিকে বিনিয়োগকারী কমে যাচ্ছে, কেন বিনিয়োগকারী কমে যাচ্ছে এবং কেন বাজারের এ অবস্থা এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী জড়িত। আর যদি সেটি না করা যায় সেক্ষেত্রে বাজারের জন্য তেমন কিছু ভালো আশা করা যায় না।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে