ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

তিন শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার দর বেড়েছে ২৩ শতাংশ

২০১৮ নভেম্বর ০৬ ০৬:২৬:৩৬
তিন শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার দর বেড়েছে ২৩ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাক্কানী পাল্প শেয়ারহোল্ডারদের তিন শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। লভ্যাংশ দিয়ে ‘জেড’ ক্যাটেগরি থেকে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ফিরতে চায় কোম্পানিটি। আর লোকসানি এ প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিনই এর শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। যদিও এদিন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাস-বৃদ্ধির কোনো সার্কিটব্রেকার ছিল না।

এদিকে প্রাইজ লিমিট বা সার্কিটব্রেকার না থাকলেও এভাবে দর বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক দেখছেন না সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে বাজারসংশ্লিষ্ট কেউই। তাদের অভিযোগ, কোম্পানির যোগসাজশে এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। এতে ফাঁদে আটকে যাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত শনিবার এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য তিন শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়। এর পরের দিনই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ে। সোমবার দিনজুড়ে আলোচনায় ছিল এই কোম্পানি। যদিও দিন শেষে শেয়ারদর ৩০ পয়সা কমেছে।

দীর্ঘদিন থেকে গুজব রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগিরই টিস্যু উৎপাদনের একটি নতুন প্রকল্প চালু করবে। এই গুজব কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণি বিনিয়োগকারী ফায়দা লুটছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিমত, কোম্পানির লোক নয়, বাইরের কেউ হয়তো এ শেয়ার নিয়ে কারসাজি করতে পারে।

কোম্পানির লেনদেন চিত্রে গত সপ্তাহের শেষদিন এর শেয়ারদর ছিল ৫১ টাকা ৭০ পয়সা। পরের কার্যদিবসে এর দর বাড়ে ১১ টাকা ১০ পয়সা বা প্রায় ২৩ শতাংশ। আর গতকাল দিন শেষে দর স্থির হয় ৬১ টাকা ৬০ পয়সায়। অন্যদিকে গত এক বছরের মধ্যে এ শেয়ার সর্বোচ্চ ৬৯ টাকা ৩০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৪৬ টাকায় লেনদেন হয়।

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যবসা মন্দা থাকার কারণে লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এ প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছিল ৮৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে লাভের বদলে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা লোকসান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮১ লাখ টাকায়। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হয় জেড ক্যাটেগরিতে। এ বছর নামমাত্র লভ্যাংশ দিলেও লোকসানের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯৬ পয়সা।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৫ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ৩৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাকি ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে