ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

ফারইস্ট নিটিং দিচ্ছে বোনাস, কমছে মুনাফা

২০১৮ অক্টোবর ১১ ১০:২৩:৩০
ফারইস্ট নিটিং দিচ্ছে বোনাস, কমছে মুনাফা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিবছর বোনাস শেয়ার দিয়ে মুনাফা কোম্পানিতেই রেখে দিচ্ছেন। এছাড়া মুনাফার তুলনায় কম বোনাস দিয়ে সংরক্ষিত আয় বাড়াচ্ছেন। কিন্তু তারপরেও কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমছে। যাতে লভ্যাংশের পরিমাণ নেমে এসেছে অর্ধেকে।

২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে মোট ৫ বার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ফারইস্ট নিটিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। প্রত্যেকবারই বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। তবে প্রথম ৩বার বোনাস শেয়ারের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ ছিল।

দেখা গেছে, কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ফান্ড পেয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট। তবে এই ফান্ড ব্যবহারের আগেই আইপিওধারীদের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ব্যবসায় ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। অথচ আইপিও ফান্ড ব্যবহারের পরে সেই লভ্যাংশ নেমে এসেছে ১০ শতাংশে।

ফারইস্ট নিটিংয়ের পর্ষদ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে সর্বপ্রথম ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ব্যবসায় ১৫ শতাংশ বোনাস দেয়। এরপরের বছরগুলোতে ১০ শতাংশ, ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বোনাস দেয়। আর সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ব্যবসায় ১০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করেছে।

এদিকে কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় ফারইস্ট নিটিংয়ের ৯১ কোটি ৩ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন ছিল। যা আইপিওতে ২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ ও নিয়মিত বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় উঠে এসেছে। আর ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ১৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকায়। আইপিওতে ৪২ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও মুনাফার তুলনায় কম লভ্যাংশ দিয়ে এই রিজার্ভ বাড়ানো হয়েছে।

ফারইস্ট নিটিংয়ের ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নিট মুনাফা হয়েছিল ৩১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয় ২.৩৮ টাকা। এই মুনাফার বিপরীতে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়া হয়। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নিট মুনাফা ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকায় বা ইপিএস ২ টাকায় নেমে আসে। এর বিপরীতেও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়া হয়। এরপরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নিট মুনাফা বেড়ে হয় ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বা ইপিএস ২.১৬ টাকা। এর বিপরীতে আবার দেওয়া হয় ১৫ শতাংশ বোনাস। আর সর্বশেস ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট মুনাফা ২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকায় বা ইপিএস ১.৪১ টাকায় নেমে এসেছে। এবং এই মুনাফার বিপরীতেও কোম্পানিটির পর্ষদ ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসার আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৯১ কোটি ৩ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন ও ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার রিজার্ভ দিয়ে ২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার মুনাফা করেছিল। যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। অথচ শেয়ারবাজারে আসার আগের তুলনায় মূলধন বেড়েছে ৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বা ১০৪ শতাংশ। আর রিজার্ভ বেড়েছে ৯৭ কোটি ১৫ লাখ টাকার বা ১৯৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ মঈন বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরের অবস্থা খুব খারাপ যাচ্ছে। এমতাবস্থায় মুনাফা কমলেও ব্যবসায় টিকে আছি এটাই বড় কথা। আর এই সমস্যা আগামি ১-২ বছরের মধ্যে সমাধান হবে বলেও মনে হয় না।

শেয়ার বার্তা/ জে ভি

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে