ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পাঁচ কোম্পানির বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে ডিএসই

২০১৮ অক্টোবর ১০ ০৬:৪৫:৩০
পাঁচ কোম্পানির বাস্তব অবস্থা পরিদর্শনে ডিএসই

দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না, এমন ১৫ কোম্পানির মধ্যে প্রথম পর্যায়ে পাঁচ কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও কারখানা পরিদর্শন করতে যাচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক অবস্থা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় তদন্ত করবেন ডিএসই কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে জমা দেয়া হবে বলে ডিএসই সূত্রে জানা যায়।

জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট ডিএসইর লিস্টিং বিভাগ থেকে প্রকৌশল খাতের কেঅ্যান্ডকিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বিবিধ খাতের সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ লিমিটেড, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় ও কারখানা পরিদর্শনের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়। ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫-এর ৫৪(১) ধারা অনুসারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পাঁচ কোম্পানি পরিদর্শনে ডিএসইর প্রস্তাব গত ১৮ সেপ্টেম্বর অনুমোদন করে কমিশন।

এর আগে গত ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িংকে তালিকাচ্যুত করে ডিএসইর পর্ষদ। এরই ধারাবাহিকতায় আগস্টের শুরুতে বিভিন্ন খাতের ১৫ কোম্পানির ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিএসই। এর মধ্যে উল্লিখিত পাঁচ কোম্পানিও রয়েছে। ডিএসইর লিস্টিং রেগুলেশন ২০১৫-এর ৫১(১)(এ) ধারা অনুসারে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ বছর ধরে লভ্যাংশ না দেয়া, টানা তিন বছর ধরে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) না করা, ঐচ্ছিকভাবে কোম্পানির অবসায়ন কিংবা টানা তিন বছর ধরে উত্পাদন বন্ধ থাকা, টানা তিন বছর ধরে লিস্টিং ফিসহ অন্যান্য ফি প্রদান না করা এবং লিস্টিং রেগুলেশন কিংবা অন্য যেকোনো সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জ যেকোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত করতে পারবে।

এসব বিষয় বিবেচনা করে জেড ক্যাটাগরির ৩০ কোম্পানি বাছাই করে পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্য থেকে বিনিয়োগকারীদের পাঁচ বছর ধরে লভ্যাংশ দিচ্ছে না, এমন ১৫ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসইর পর্ষদ। এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিএসইর পক্ষ থেকে পরিদর্শনের তালিকায় থাকা পাঁচ কোম্পানি ছাড়া আরো ১০ কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ও জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, বস্ত্র খাতের দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেড ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল, ব্যাংক খাতের আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, ট্যানারি খাতের সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, পাট খাতের জুট স্পিনার্স লিমিটেড, ওষুধ ও রসায়ন খাতের বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেড, সিরামিকস খাতের শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেড।

ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব কোম্পানির পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও বন্ধ আছে অনেক কোম্পানির। অথচ প্রায়ই এসব কোম্পানির শেয়ারদর কোনো কারণ ছাড়াই লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকে। কারসাজি চক্রও এসব কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। জেড ক্যাটাগরির এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারের জন্য জঞ্জাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারের স্থিতিশীলতা নষ্টের জন্যও এসব কোম্পানি অনেকাংশে দায়ী। এ ধরনের কোম্পানি পুঁজিবাজারে থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো।

কোম্পানি পরিদর্শনের বিষয়ে ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, আমরা ১৫টি কোম্পানিকে তাদের ব্যবসায়িক, আর্থিকসহ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা চিঠির জবাবও দিয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে কোম্পানিগুলোর অবস্থা সম্পর্কে আরো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কোম্পানিগুলোর প্রধান কার্যালয় ও কারখানা পরিদর্শন প্রয়োজন। এজন্য আমরা প্রথম পর্যায়ে বিএসইসির কাছে পাঁচ কোম্পানি পরিদর্শনের অনুমোদন চেয়েছিলাম। কমিশন আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। পাঁচ কোম্পানি পরিদর্শন শেষে আমরা এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করব। পরবর্তী সময়ে এ কোম্পানিগুলোকে মূল মার্কেটে রাখা হবে, নাকি তালিকাচ্যুত করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে