ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

সংশোধন হচ্ছে ড্রাগন সোয়েটারের রাইট প্রস্তাব

২০১৮ অক্টোবর ১০ ০৬:২৪:৪৯
সংশোধন হচ্ছে ড্রাগন সোয়েটারের রাইট প্রস্তাব

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্রখাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং মিলস লিমিটেড রাইট শেয়ার বিক্রি করে মূলধন বাড়ানোর পরিকল্পনায় সংশোধন আনছে। কোম্পানিটি ৮৮ কোটি টাকা মূলধন বাড়াতে বিদ্যমান তিনটি শেয়ারের বিপরীতে দুটি শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করেছে, যা বিএসইসির বিবেচনাধীন। এখন রাইট শেয়ার বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।

কোম্পানি ও এর ইস্যু ম্যানেজার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লভ্যাংশ হিসাবে বোনাস শেয়ার প্রদানের বিষয়ে ড্রাগন সোয়েটারের পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে এ সংশোধন আবশ্যক হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ব্যবসা সম্প্রসারণে যতটা মূলধন প্রয়োজন, তার একটা অংশ বোনাস শেয়ার ইস্যু থেকে উত্তোলিত হবে বলে রাইটের হারেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

চলতি বছরের মে মাসে ড্রাগন সোয়েটারের পর্ষদ বিদ্যমান ১৩ কোটি ২০ লাখ শেয়ারের প্রতি তিনটির বিপরীতে দুটি নতুন শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব করেছিল। অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটির প্রায় ৮৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব ছিল। গত ২ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডাররা পর্ষদের ওই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। এর পর তা অনুমোদনে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়। এর আড়াই মাস পর কোম্পানিটি রাইট সংশোধনের পরিকল্পনা করছে।

তবে বিএসইসি সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনও কোম্পানিটির কাছ থেকে এমন কোনো প্রস্তাব পায়নি। এ ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রির সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আনতে চাইলে কোম্পানিটিকে ফের ইজিএম করতে হবে।

রাইট প্রস্তাব সংশোধনের কারণ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রহমান বলেন, রাইট প্রস্তাব বিএসইসিতে অনুমোদনের আবেদন জমা দেওয়ার পর ড্রাগনের পর্ষদ লভ্যাংশ আকারে ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব করেছে। এজিএমে এ প্রস্তাব শেয়ারহোল্ডাররা অনুমোদন করলে এ প্রক্রিয়ায় কোম্পানিতে সাড়ে ২৬ কোটি টাকার মূলধন যোগ হবে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণে যে পরিকল্পনা আছে, সে জন্য রাইট বিক্রির পুরো অর্থ লাগবে না। এ কারণে রাইট সংশোধনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।

তাছাড়া বোনাস শেয়ার ইস্যুর কারণে শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আগের হার (২ রাইট : ৩ সাধারণ শেয়ার) ঠিক থাকবে না বলেও জানান সোহেল রহমান। তিনি বলেন, এ কারণেও রাইট শেয়ার বিক্রির আগের পরিকল্পনাটি সংশোধন করতেই হবে।

ড্রাগন সোয়েটারের কোম্পানি সচিব খাজা হোসেইন এ বিষয়ে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাইট সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। এ সংশোধনের ফলে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা লাভবান হবেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ব্যাখ্যায় তিনি আরও বলেন, রাইটের হারে পরিবর্তন না আনলে অতিরিক্ত শেয়ারের কারণে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমবে। কারণ উত্তোলিত মূলধন ব্যবসার কাজে না এলে তা থেকে মুনাফা আসবে না। তবে যে পরিবর্তনই আনা হোক, তা ইস্যু ম্যানেজার আইসিবির ক্যাপিটালের পরামর্শ নিয়ে করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে আইপিও প্রক্রিয়ায় উত্তোলিত এ মূলধন নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার করতে না পারার জন্য গত মার্চে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয় পরিচালককে পাঁচ লাখ করে মোট ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চার কোটি শেয়ার বিক্রি করে মোট ৪০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ড্রাগন সোয়েটার।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে