ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

রাইট ইস্যুর পরেও বোনাস শেয়ারেই আটকে আছে জেনারেশন নেক্সট

২০১৮ অক্টোবর ০৯ ১১:৫৩:১০
রাইট ইস্যুর পরেও বোনাস শেয়ারেই আটকে আছে জেনারেশন নেক্সট

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির দুই বছরের মধ্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন। তারপরেও কোম্পানিটি বোনাস শেয়ার থেকে বের হতে পারেনি। তালিকাভুক্তির ৬ বছরের মধ্যে একবারও নগদ লভ্যাংশ দেয়নি। এই ধারাবাহিকতা ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও ধরে রাখা হয়েছে। এই অর্থবছরেও বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে মুনাফার শতভাগ কোম্পানিতে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ কোম্পানিটি ব্যবসায় নিয়মিতভাবে পিছিয়ে পড়ছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস ২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও কোনবছর শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেনি। যদিও একটি কোম্পানির ভিত্তি কতটা মজবুত তা বোঝা যায় নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতার উপরে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন। এবং একই বছরে ২০১১ সালের ব্যবসায় কোম্পানিটির পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করে। যা এখনো বোনাস শেয়ার দিয়েই চলছে। এরমধ্যে ২০১৪ সালে কোম্পানিটি থেকে ৩টি সাধারন শেয়ারের বিপরীতে ২টি রাইট শেয়ারও ইস্যু করা হয়।

কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা। যা রাইট শেয়ার, আইপিও ও নিয়মিত বোনাস শেয়ারের মাধ্যমে ৪৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূলধন বেড়েছে ৩৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা ৪১৬ শতাংশ।

দেখা গেছে, কোম্পানিটি থেকে ২০১২ সালের ব্যবসায়ও ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়া হয়। যা ২০১৩ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১৫-১৬ (জানুয়ারি ১৫-জুন ১৬) অর্থবছরে ১০ শতাংশ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়া হয়। আর সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ব্যবসায়ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিয়মিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কমে যাচ্ছে। তবে থেমে নেই বোনাস শেয়ার প্রদান। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কোম্পানিটিতে। কোম্পানিটির ২০১০ সালের ২.৬৮ টাকার ইপিএস ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হয়েছে ১.০১ টাকা। এরমাঝে ২০১১ সালে ২.০৯ টাকা, ২০১২ সালে ২.০১ টাকা, ২০১৩ সালে ২.১৫ টাকা, ২০১৪ সালে ১.৫৪ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ০.৫৯ টাকা ইপিএস হয়।

জেনারেশন নেক্সট থেকে মালিকানা তুলে নিয়েছেন পরিচালক ও উদ্যোক্তারা। কোম্পানিটিতে বর্তমানে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মাত্র ১৩.৮২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। যা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরে ছিল ৩০.৮১ শতাংশ।

এদিকে কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও তলানিতে। যার প্রভাবে কোম্পানিটির শেয়ার এখন অভিহিত মূল্যের নিচে ৮.৩০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। যা তালিকাভুক্তির সাড়ে ৩ বছরেই এমন নাজুক অবস্থায় নেমে আসে।

শেয়ার বার্তা/ জে ভি

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে