ঢাকা, সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

হল্টেড কোম্পানির শেয়ারে নজরদারি বাড়াতে হবে

২০১৮ অক্টোবর ০২ ২১:৫৯:১১
হল্টেড কোম্পানির শেয়ারে নজরদারি বাড়াতে হবে

বেশকিছু দিন ধরে দেখা যাচ্ছে, বেশকিছু স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না বা হল্টেড হচ্ছে। একটি শ্রেণি কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে, শেয়ারে দাম বাড়তে দেখে যেসব সাধারণ বিনিয়োগকারী দেরিতে সেই শেয়ারটিতে বিনিয়োগ করছেন, তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই এদিকে ডিএসই, সিএসই ও বিএসইসির কঠোর নজরদারি করতে হবে।

সোমবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক বাকী খলীলী এবং বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সম্পাদনা করেন হাসিব হাসান।

অধ্যাপক বাকী খলীলী বলেন, ২০১০ সালের পর অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিএসইসি অনেক নিয়ম-কানুন ও পলিসিগত পরিবর্তন এনেছে। কয়েক বছর ধরে তারল্য সংকট চলছে। আসলে বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব সঞ্চয়ের মূলধন বাজারে বিনিয়োগ করলে তারল্য সংকট থাকার কথা নয়। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি বিনিয়োগকারী যত বাড়বে তারল্য সংকট ততটাই কাটিয়ে ওঠা যাবে। তবে এটাও সত্য, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বাজারে তারল্য সংকট হলেই মানি মার্কেটের ওপর তার দায় পড়ে। কারণ মানি মার্কেটে ঋণের প্রবাহ যদি বাড়ে তখন বিনিয়োগের চাহিদা বা দাম বাড়ে। কিন্তু যখন ঋণের সমন্বয় করা হয় তখন শেয়ারের দাম কমতে থাকে। যখন বাজারে পতন হয় তখন আমরা তারল্য সংকটকে দায়ী করি। যদি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাজারে আনা হয় সেক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে। বাজারে যে তারল্য সংকট তা মানি মার্কেটের কারণে নয় বলে আমি মনে করি।

আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া বলেন, ২০১০ সালের বাজার ধসের পর পুঁজিবাজারে প্রায় ১০০’র বেশি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু ২০১০ সালে যেসব বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা ২০১৮ সালে এসেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেনি। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালে যেসব কোম্পানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেখানে গুটিকয়েক ভালো কোম্পানি ছাড়া সবই স্বল্পমূলধনি কোম্পানি। এ সব কোম্পানি প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে ডিভিডেন্ড দিয়েছে এবং কোম্পানির অবস্থান ভালো ছিল। তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে এসে কোম্পানিগুলো ভালো করতে পারে নাই বা লোকসান করেছে। তখন ওই কোম্পানি জেড ক্যাটেগরিতে চলে যায় এবং পরে তাদের স্পন্সরদের খবর থাকে না। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য গঠন করা হয় ফাইন্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল। এদের কিন্ত একটি ভূমিকা থাকা দরকার। কিন্তু তাদের তেমন সক্রিয়তা দেখা যায় না। এর পেছনে মূল কারণ সুশাসন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব। যখন শেয়ার দাম কমে যায় তখন বিএসইসিকে দোষারোপ করা হয়। আসলে এখানে বিএসইসির একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। যখন কোনো কোম্পানি অডিট করা হয় তখন সিএফওরা সীমিত কিছু কাজপত্র ধরিয়ে দেন অডিটরদের। তারাও তাড়াহুড়ো করে কোনো রকম অডিট করে চলে যায়। এতে সঠিকভাবে ওই কোম্পানির তথ্য জানা যায় না। এখানে অডিট ফার্মগুলোর সমস্যা রয়েছে। দেখা যায় শিক্ষানবিস ছাত্রদের অডিট করতে পাঠায় তারা। শিক্ষানবিস ছাত্রদের তেমন দক্ষতা না থাকায় কোম্পানির সব তথ্য সঠিকভাবে আনতে পারে না। একজন অডিটর নিয়োগ করা হয় এক থেকে দুই লাখ টাকায়। এখানে সিএ ফার্মগুলোর জবাবদিহিতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জীবন বিমা সাধারণত ২৫ বছর মেয়াদি করা হয়। ২৫ বছর মেয়াদি ফান্ডের টাকা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তারা ব্যাংকে জমা রাখেন। ব্যাংকের সুদের ওপর একটি ডিভিডেন্ড দেয়। কিন্তু এ ফান্ডের টাকা যদি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হতো তাহলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়তো। কয়েক দিন ধরে দেখছি বেশকিছু স্বল্পমূলধনি কোম্পানির শেয়ার হল্টেড হচ্ছে। একটি শ্রেণি শেয়ারের দাম বৃদ্ধি করে পরে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এদিকে ডিএসই, সিএসই ও বিএসইসির নজর দিতে হবে। আমাদের পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির ২১ শতাংশ মাত্র। ২১ শতাংশকে খারাপ বলা যায় না কারণ দেশ অর্থনীতির দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক উন্নয়ন হচ্ছে।

শেয়ারবার্তা/

বাজার বিশ্লেষণ এর সর্বশেষ খবর

উপরে