ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫

৫৭ ব্যাংকের মধ্যে ৪৩টিতে এখনো ২ অঙ্কের সুদ

২০১৮ আগস্ট ২৮ ০৬:২১:৫৩
৫৭ ব্যাংকের মধ্যে ৪৩টিতে এখনো ২ অঙ্কের সুদ

প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ এবং ব্যাংক পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) প্রতিশ্রুতির পরও দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট ৯ শতাংশের মধ্যে আসেনি। বারবার সময় বেঁধে দেয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ ব্যাংক তা অগ্রাহ্য করেছে। জুলাই পর্যন্ত দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১৪টি ব্যাংকের শিল্পঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমেছে। বাকি ৪৩টি ব্যাংকে সুদহার ডাবল ডিজিটেই রয়ে গেছে। আগস্ট মাসের শুরুর দিকে দুটি বেসরকারি ব্যাংক আমানতের সুদহার কমিয়েছে। তবে তারা ঋণের সুদহার কমায়নি।

এদিকে শিল্প ঋণের সুদহার কিছু ব্যাংকে কমলেও এর বিপরীতে বিভিন্ন চার্জ, ফি বা কমিশন আরও বেড়েছে। ফলে এসব মিলিয়ে ব্যাংক সুদহার ডাবল ডিজিটেই থাকছে।

এর আগে ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। এর আলোকে অর্থমন্ত্রীও একাধিকবার ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এ হার কমানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে আসছে না। এ বিষয়ে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘সুদ হারের বিষয়টি প্রতিনিয়ত তদারক করা হচ্ছে। প্রতিশ্রুতির চেয়ে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে বেশি সুদ নেয়ার তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির পক্ষ থেকে ঘোষণা ছিল ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করবে। সরকারি ব্যাংকগুলোও এর বেশি সুদ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা আলাদাভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে জানিয়ে আসেন অধিকাংশ ব্যাংক জুলাই থেকে উৎপাদনশীল খাতে এক অংকের সুদে ঋণ বিতরণ শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া ব্যাংকগুলোর জুলাইয়ের প্রতিবেদনে এ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন নেই। জুলাইয়ে উৎপাদনশীল খাতে দুই অংকে সুদ নিয়েছে ৪৩টি ব্যাংক।


বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক জুলাইয়ে শিল্পের মেয়াদি ঋণে সুদ নিয়েছে ১২ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। শিল্প খাতের চলতি মূলধন ঋণ বিতরণ করেছে ১৩ শতাংশ সুদে। আর বাণিজ্যি (ট্রেড ফাইন্যান্স) ঋণে ১৩ শতাংশ সুদ নিয়েছে। শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, বিডিবিএল শিল্প ঋণ বিতরণ করেছে ১২ শতাংশ সুদে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর চিত্র এর চেয়ে আরও খারাপ।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, জুলাইয়ে এবি ব্যাংক বাণিজ্য ঋণে সুদ নিয়েছে ৯ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। ব্র্যাক ব্যাংক শিল্পে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ডাচ্-বাংলা ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ফারমার্স ব্যাংক ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ, আইসিবি ইসলামিক ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ, যমুনা ব্যাংক সাড়ে ১৩ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক বাণিজ্যে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ, মেঘনা ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, মধুমতি ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, ন্যাশনাল ব্যাংক ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১১ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১১ থেকে ১৪ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক সাড়ে ১১ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল বাণিজ্যে ৯ থেকে ১৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৫ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ৯ থেকে ১২ শতাংশ, পূবালী ব্যাংক সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ, সাউথ বাংলা ব্যাংক বাণিজ্যে ১২ থেকে ১৪ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড বাণিজ্যে ৯ থেকে ১২ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ এবং উত্তরা ব্যাংক বাণিজ্যে ১১ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ নিয়েছে। বিদেশি ৯টি ব্যাংকও শিল্প ও বাণিজ্যের কোনো ক্ষেত্রে ২ অঙ্কের সুদ নিয়েছে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে