ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুতির আশঙ্কায় ৩০ কোম্পানি

২০১৮ আগস্ট ০৮ ০৩:৩১:২৬
পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুতির আশঙ্কায় ৩০ কোম্পানি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেড ক্যাটেগরির কোম্পানির বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যে ১৩ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এজন্য মঙ্গলবার কোম্পানিগুলোকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। এছাড়া, নজরদারিতে রয়েছে আরও ১৭ কোম্পানি। আর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্তের ফলে জাঙ্ক শেয়ার নিয়ে খেলা বন্ধ হবে।

জানা গেছে, চিঠিতে কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, লভ্যাংশ ও উৎপাদন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। আপাতত গত ৫ বছর বা এর বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় নাÑএমন ১৩ কোম্পানিকে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে: মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, জুট স্পিনার্স, ইমাম বাটন, বেক্সিমকো সিনথেটিক্স, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, শাইনপুকুর সিরামিকস ও কে অ্যান্ড কিউ।

সূত্র জানায়, ডিএসইর নজরদারিতে রয়েছে এ ধরনের আরও ১৭ কোম্পানি। এসব কোম্পানিকেও পর্যায়ক্রমে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে তালিকাচ্যুতি।

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থ তথা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আমরা এমন ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক্ষুণি কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে চাই না। বিষয়টি নির্ভর করছে কোম্পানিগুলো কেমন ব্যাখ্যা দেয়, তার ওপর।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে তালিকাচ্যুত হতে পারে এমন ৩০ কোম্পানি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যেসব কোম্পানি নিয়মিত লভ্যাংশ বিতরণ ও বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে না। তবে এর মধ্যে আপাতত ১৩ কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অচিরেই অন্য কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক পরিচালক বলেন, ওইসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত করা হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো স্বল্প মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে বাজারের বৃহৎ স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কারণ কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হওয়ার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি।

এদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করার খবর ছড়িয়ে পড়লে সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমতে থাকে। বিনিয়োগকারীরা কম দরে হলেও শেয়ার বিক্রি করে সেসব শেয়ার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ কোম্পানিতে এক সময় ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। যার জেরে দিনশেষে দরপতনের তালিকায় চলে আসে ১৩টির মধ্যে আট প্রতিষ্ঠান। এগুলো হচ্ছে: ইমাম বাটন, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, শ্যামপুর সুগার মিলস, জিলবাংলা সুগার মিলস, দুলামিয়া কটন, জুট স্পিনার্স ও মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ।

অন্যদিকে ডিএসইর এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ভালো উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, এমন সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড, এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। কারণ এসব কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো রিটার্ন দিতে পারে না। অন্যদিকে এসব কোম্পানি নিয়ে বাজারে কারসাজির ঘটনাও ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাই বাজারের স্বার্থে এসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত হলেও তা হবে স্বাভাবিক ঘটনা।

এর আগে গত ১৮ জুলাই দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকা রহিমা ফুড ও মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংকে (ডিলিস্টিং) করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। নিকট-ভবিষ্যতে কোম্পানি দুটির উৎপাদন শুরুর কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে