ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬

এক্ষুনি জেনে নিন খিচুনীর কারণ এবং এর চিকিৎসা

২০১৮ জুলাই ২১ ১৪:৪৬:৪৬
এক্ষুনি জেনে নিন খিচুনীর কারণ এবং এর চিকিৎসা

অসুস্থতা কারোই কাম্য নয়। অসুস্থত থাকার চেয়ে সুস্থ থাকা অনেক ভালো। স্বাস্থ্যের মূল নীতি হল, স্বাস্থ্যকর খাবার, সুস্থত থাকা। কিছু কিছু বিষয় আছে যাদেরকে খিচুনীর ত্বরান্বিতকারী বিষয় প্রেসিপিটেটিং বা ট্রিগার ফ্যাক্টর বলা হয়। মৃগীরোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মস্তিষ্ক যাদের, তাদের ক্ষেত্রে এই ট্রিগার ফ্যাক্টরগুলির উপস্থিতি খিচুনীর উদ্ভব ঘটায়। যেমন, অনিদ্রা, অ্যালকোহল ও অন্যান্য উদ্দীপক নেশাদ্রব্য, অত্যধিক শারীরিক ও মানসিক অবসাদ, টিভি বা কম্পিউটার স্ক্রীনের কম্পমান আলো, উচ্চ আওয়াজযুক্ত সংগীত বা কোলাহল, গরম পানিতে গোসল ইত্যাদি।

তবে, খিচুনী বা মৃগীরোগের জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা হয় সে সব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো-

খিচুনী বা মৃগীরোগ কি?
মস্তিষ্ক-কোষ বা নিউরনের তাড়িতিক বেগের অস্বাভাবিকতার কারণে যে কোন ধরণের ক্ষণস্থায়ী শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা বাহ্যিকলক্ষণকে সিজার বা খিচুনী বলা হয়। বার বার খিচুনী হওয়ার প্রবণতাকে মৃগীরোগ বলা হয়ে থাকে। এপিলেপসি বা মৃগীরোগ স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্রনিক রোগ। যে কোন বয়সে, পুরুষ বা নারীর যে কারো এ রোগ হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খিচুনীর বা মৃগীরোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

১. বংশগত কারণ:
বংশে কারো মৃগীরোগ থাকলে ঐ বংশের যে কোন ব্যক্তির মৃগী হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। দেখা গেছে, ৩০% রোগীর ক্ষেত্রে তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ফার্স্ট – ডিগ্রি রিলেটিভ মৃগীরোগের ইতিহাস আছে।

২. জ্বর বা ফেব্রাইল কনভালশন:
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অনেক সময় উচ্চ-তাপমাত্রার জ্বরের পর খিচুনী হতে দেখা যায়। একে ফেব্রাইল কনভালশন বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এই ধরণের খিচুনী পরবর্তীতে মৃগীরোগে রূপ নেয়।

৩. প্রসবকালীন আঘাত:
প্রসবের সময় কোন কারণে শিশুর মাথায় আঘাত লাগলে পরবর্তীতে মৃগীরোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪. মস্তিষ্কের রোগ:
ডিজেনারেটিভ রোগ যেমন, আলঝেইমার্স রোগ, ক্রুডজফেল্ড জ্যাকব রোগ প্রভৃতি, প্রদাহজনিত রোগ, যেমন – এনকেফালাইটিস, মেনিনজাইটিস, সেরিব্রাল অ্যাবসেস, করটিকাল ভেনাস থ্রম্বোসিস, নিউরোসিফিলিস প্রভৃতি রোগে খিচুনী হতে পারে। এছাড়া মাল্টিপল স্কে¬রোসিস, হাইড্রোকেফালাস প্রভৃতি রোগের ফলেও খিচুনী দেখা দেয়।

৫. মস্তিষ্কের টিউমার:
মস্তিষ্কের কর্টেক্স অংশে টিউমার থাকলে তার ফলে মৃগীরোগ হতে পারে।

৬. মস্তিষ্কে অক্সিজেনের স্বল্পতা:
মস্তিষ্কের রক্ত-পরিবাহী নালীর সমস্যা বা অন্য কোন কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে খিঁচুনী এবং তা থেকে মৃগীরোগ হতে পারে।

৭. মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার:
মস্তিষ্কের সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ারের অস্ত্রোপচারের পর ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃগীরোগ হতে পারে।

৮. অতিরিক্ত মাদকাসক্তি:
দীর্ঘদিন ধরে যারা অ্যালকোহলে আসক্ত, তাদের মৃগীরোগ হতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনকালে এবং অ্যালকোহল পান ছেড়ে দেয়ার সময়, উভয় সময়েই খিচুনী হতে পারে।

৯. বিভিন্ন রোগের ওষুধ:
বিভিন্ন রোগের জন্য ব্যবহৃত ওষুধও খিচুনী সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক – যেমন – পেনিসিলিন, আইসোনিয়াজাইড, মেট্রোনিডাজল। অ্যান্টিম্যালেরিয়াল- যেমন, ক্লোরোকুইন, মেফলোকুইন ইত্যাদি।

১০. মানসিক রোগের ওষুধ:
ফেনোথায়াজিন, ট্রাইসাইক্লিকস, লিথিয়া, সাইক্লোস্পোরিন, অ্যাম্ফিটামিন প্রভৃতি।

১১. মেটাবলিক ডিসঅর্ডার:
বিভিন্ন ধরণের বিপাকীয় ব্যধি বা মেটাবলিক ডিসঅর্ডার থেকে খিচুনী হতে পারে। যেমন- হাইপোক্যালসেমিয়া (রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়া), হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া), হাইপোনেট্রেমিয়া (রক্তে সোডিয়াম কমে যাওয়া), হাইপোম্যাগনেসিমিয়া (রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া), রেনাল ফেইলিওর, লিভার ফেইলিওর প্রভৃতি।

শেয়ার বার্তা/ জে ভি

লাইফস্টাইল এর সর্বশেষ খবর

উপরে