ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

পুঁজিবাজারের নেতৃত্বদানকারীদের সততা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট নয়

২০১৮ জুলাই ১০ ০৫:২৭:১০
পুঁজিবাজারের নেতৃত্বদানকারীদের সততা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট নয়

বেশি বেশি সরকারি হস্তক্ষেপ বাজারের জন্য খুবই খারাপ। দেখা গেছে, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা আজকে একটি নিয়ম চালু করে তো পরদিনই তা পরিবর্তন করে নতুন আরেকটি নিয়ম চালু করে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার। বাজারের আরও একটি বিষয় হচ্ছে কোনো শেয়ারের দর বাড়লেই শুধু তদন্ত করা হয়। আর এ কাজটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা খুব ভালোভাবেই করে আসছে। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে শেয়ারদর না বাড়লে বাজার ভালো হবে কীভাবে?

সোমবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা, সম্পাদনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আহসানুল আলম পারভেজ এবং পুঁজিবাজারের টেকনিক্যাল অ্যানালিস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ মহসীন।

আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যে প্রস্তাবনাই করে থাকুক, তার কতটুক বাস্তবায়িত হলো আর হলো না তা দিয়ে পুঁজিবাজারের অসুস্থতা সারানো যাবে না। আর এর মূল কারণ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। তাছাড়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আছেন। তারা প্রথমবার কী করেছেন এবং কোথায় সফল বা ব্যর্থ হয়েছেন তা জনগণ ভালো করেই জানেন। দ্বিতীয়বার তারাই আবার নেতৃত্বে এসেছেন। এখন তৃতীয়বারের মতো যখন তাদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে তাতে আমি মনে করি খুব সহসাই বাজারে আস্থা ফিরবে না বিনিয়োগকরীদের। এখানে অনেক ফাঁকি আছে ভেবে তারা বরং আরও বেড়িয়ে যাবে বাজার থেকে। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা যে সব সুপারিশ করছে সেগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, ওখানে জ্বর আসলে নাপার ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু বড় ধরনের অসুখ হলে তার কোনো প্রতিকার নেই। যেমন-এক হাজার টাকার শেয়ারকে আড়াই হাজার টাকায় পুনর্মূল্যায়ন করে প্রিমিয়ামে শেয়ার আনার মতো খেলা যেহেতু পুঁজিবাজারে হয়েছে এবং হচ্ছে, সেহেতু বাজার এখন যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। আর যতদিন পর্যন্ত পুঁজিবাজার দুর্নীতিগ্রস্ত নয় এমন ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে না আসবে ততদিন বাজারের এমন অবস্থায়ই থাকবে। মূল কথা, পুঁজিবাজারের নেতৃত্বদানকারীদের সততা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট নয়।

মুহাম্মদ মহসীন বলেন, ব্যাংকের লভ্যাংশের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে। এদিকে মিডিয়াতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংক তাদের আমানত হারাচ্ছে। আর এ অর্থগুলো আমানতকারীরা তুলে নিচ্ছে। এখন কথা হচ্ছে, তারা অর্থ নিয়ে কোথায় যাবে? তাদের একটি অংশ সঞ্চয়পত্রে যাবে, একটি অংশ হয়তো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে। আবার কেউ কেউ জমিজমা কিনবে এবং কিছু টাকা পাচারও হতে পারে। সরকারের মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য হচ্ছে ছয় শতাংশের কাছাকাছি। আর যদি মুদ্রাস্ফীতির রেট ছয় শতাংশ হয়ে যায় তাহলে যারা একটু বুঝে তারা ব্যাংকে অর্থ রাখার আগে দ্বিতীয়বার ভাববে। কারণ সেখানে প্রকৃত ইন্টারেস্ট রেট শূন্য অথবা নেতিবাচক হতে পারে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অযাচিত বা অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়। অর্থনীতির ভাষায় একটি কথা আছেÑবেশি বেশি সরকারি হস্তক্ষেপ বাজারের জন্য খুবই খারাপ। দেখা যায়, এসইসি আজকে একটি নিয়ম দেয় তো কালকে তা পরিবর্তন করে আর একটি দেয়। কাজেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় আনা দরকার। বাজারে আর একটি বিষয় হচ্ছে-কোনো শেয়ারের দর বাড়লেই শুধু তদন্ত করা হয়। আর এ কাজটি এসইসি ভালোভাবেই করে আসছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শেয়ারদর না বাড়লে বাজার ভালো হবে কীভাবে?

শেয়ারবার্তা / মামুন

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে