ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫

আরেকটি বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে ব্যাংক খাত

২০১৮ জুলাই ০৯ ০০:১০:৩৭
আরেকটি বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে ব্যাংক খাত

ব্যাংক খাতের সামগ্রিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বর্তমানে এটি স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় আছে। জুলাইয়ের শুরু থেকে ডিপোজিট রেট সিঙ্গেল ডিজিট করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ১২ শতাংশ হারে কেউ যদি ছয় মাস বা এক বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডিপোজিট নিয়ে থাকে তাহলে হঠাৎ কীভাবে ১ জুলাই থেকে তা ৯ শতাংশে নামাবে? এদিক বিবেচনায় ব্যাংক খাত আরও একটি বিপর্যয় বা ছত্রভঙ্গের দিকে যাচ্ছে। রোববার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা, সম্পাদনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু, এফসিএ এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মো. শফিকুল আলম, এফসিএ।

মাহমুদুল হাসান খসরু বলেন, ব্যাংক খাতের সামগ্রিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বর্তমানে এটি স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় আছে। জুলাইয়ের শুরু থেকে সিঙ্গেল ডিজিট করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এ নির্দেশ কতজন পালন করেছে বা এত স্বল্প সময়ে এটি বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়। একটি ব্যাংক চালাতে হলে ট্রেজারি বিভাগকে ব্যবস্থা করতে হয়। তারা ডিপোজিট নেয় এবং তার বিপরীতে লেন্ডিং করে থাকে। বাকিটা হচ্ছে তার স্প্রেড। ১২ শতাংশ হারে কেউ যদি ছয় মাস বা এক বছর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডিপোজিট নিয়ে থাকে তাহলে হঠাৎ কীভাবে ১ জুলাই থেকে তা ৯ শতাংশে নামাবে? এদিক বিবেচনায় ব্যাংক খাত আরও একটি বিপর্যয় বা ছত্রভঙ্গের দিকে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অর্থনীতির একটি অন্যতম খাত হচ্ছে মানি মার্কেট এবং তারা অর্থ সংগ্রহ করে জনগণের কাছ থেকে। আর জনগণ ব্যাংকে টাকা রাখবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা রেখে সময়মতো তা উঠাতে পারছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, এমন অবস্থায় তাদের যাওয়ার জায়গাটি কোথায়?

মো. শফিকুল আলম বলেন, আজ থেকে এক বছর আগে দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক রেট সবচেয়ে কম ছিল এবং তখন এটি সিঙ্গেল ডিজিটে চলে এসেছিল। ওই সময় সাত দশমিক ৫০ থেকে ৯ শতাংশ সুদে করপোরেট ঋণ নেওয়া যেত। আর যখন এটি বাড়ল তার যৌক্তিকতা ছিল। ব্যাংক খাতের হঠাৎ করে এডি রেশিওর সমন্বয়ের একটি চাপ আর তারল্য সংকট হওয়া। আর এটি বাড়ার এক বছরের মধ্যে জোরপূর্বক এক মাসের সময় দিয়ে আবার সিঙ্গেল ডিজিটে আনার কথা বলা হলো। কিন্তু তখন যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বসে বিষয়টি চিন্তা করা হতো তাহলে হয়তো আজকের এ অবস্থা হতো না। রেট যখন বাড়ল তখন চিন্তা করা হলো না যে, তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো হঠাৎ করে আক্রমণাত্মকভাবে ডিপোজিট সংগ্রহ করা শুরু করবে। এফডিআর পাঁচ-ছয় শতাংশ হওয়ায় বলা হতো এর থেকে ক্যাপিটাল মার্কেট অনেক বেশি লাভজনক। কারণ ছয় শতাংশ সুদে যদি ব্যাংকে আমানত রাখা যায় তাহলে ট্যাক্স কেটে চার-পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ পাওয়া যায়। সেদিক বিবেচনায় বাজারে অনেক কোম্পানি ১৫ শতাংশ নগদ বা বোনাস লভ্যাংশ দিচ্ছে, যা ব্যাংকের ডিপোজিট রেটের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু সেই দৃশ্য যখন পরিবর্তন হয়ে গেল, মানে পুঁজিবাজারে একটানা পতন শুরু হলো তার এক-দুই মাসের মধ্যে ব্যাংক রেট ছয় থেকে ১১-১২ শতাংশে চলে গেল। কাজেই যখন কেউ কোনো ধরনের ঝুঁকি ছাড়া ১২ শতাংশের মতো লভ্যাংশ পাবে তখন সে পুঁঁজিবাজারের ঝুঁকিতে কেন যাবে। শুরুতেই যদি বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করে কাজ করা হতো তাহলে এক বছরের ব্যবধানে ক্যাপিটাল মার্কেট ও মানি মার্কেটের ওপর এমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ত না।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে