ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫

‘পুঁজিবাজারের চেহারাই পাল্টে যাবে’

২০১৮ মে ১৬ ০৫:৫৯:৩০
‘পুঁজিবাজারের চেহারাই পাল্টে যাবে’

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নীতিনির্ধারক মহল থেকে বাজার নিয়ে চিন্তা করা হলে এবং বাজার ভালো করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। একটি দেশের অর্থনীতিতে আর্থিক খাতে সুশাসন থাকা খুবই জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থিক খাতে নানা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটছে। যে কারণে গত বছর ব্যাংক খাতের শেয়ারদর অধিক বাড়লেও এ বছর তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা, সম্পাদনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বালি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের পরিচালক মো. আরিফুর রহমান ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু সাঈদ আহমেদ, এফসিএ।

মো. আরিফুর রহমান বলেন, যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সম্প্রতি চীনের শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাছাই করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আর শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বের সেরা ১০টি স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে দুটি। কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনকে বাছাই করার জন্য বিএসইসিকে অবশ্যই সাধুবাদ দেওয়া দরকার। পাশাপাশি চীনের দুই বড় স্টক এক্সচেঞ্জকে পুঁজিবাজারে সম্পৃক্ত করতে পারাকে ডিএসইর জন্য একটি মাইলফলক বলা যায়। চীনারা পুঁজিবাজারে এলে প্রযুক্তিগত অনেক উন্নতি হবে। পাশাপাশি বাজারও সম্প্রসারিত হবে। যা দেশের পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে আনবে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে এত বড় দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারে এলো; তারপরও বাজারে তার ইতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, কৌশলগত অংশীদারের ইতিবাচক প্রভাব একটি নির্দিষ্ট সময় পর পাওয়া যাবে। রাতারাতি এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ যে কোনো কাজের সুফল পেতে হলে একটু সময় লাগে। এছাড়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, চীন ইকুইটি মার্কেটের পাশাপাশি অন্য অনেক প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করে। তারা ডেরিভেটিভস নিয়ে কাজ করে। বন্ড মার্কেটও অনেক শক্তিশালী তাদের। কাজেই এ বিষয়গুলো যখন দেশের পুঁজিবাজারে আসবে, তখন পুঁজিবাজারের চেহারাটাই পাল্টে যাবে বলে মনে করি। তাছাড়া চীনে অনেক বড় বিনিয়োগকারী আছে। তাদের মধ্য থেকে কিছু বিনিয়োগকারী যদি দেশের বাজারে বিনিয়োগ করে, তাহলে আমাদের পুঁজিবাজারের অনেক সম্প্রসারণ হবে। আর এ প্রত্যাশাই দেশের সব বিনিয়োগকারীর। এখন দেখার বিষয় কখন বাজার ওই পর্যায়ে যায়।

আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। ২০১০ সালের বাজারধসের পর এখনও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পরিপূর্ণ আস্থা ফিরে আসেনি। কথা হচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা কীভাবে আসবে? বিনিয়োগকারীরা যখন দেখবেন, প্রকৃতপক্ষেই নীতিনির্ধারক মহল থেকে বাজার নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে এবং বাজার ভালো করার জন্য তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনীতিতে আর্থিক খাতে সুশাসন থাকা খুব জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থিক খাতে নানা কেলেঙ্কারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে কারণে গত বছর ব্যাংক খাতের শেয়ারদর অধিক বাড়লেও এ বছর তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।


শেয়ারবার্তা / শহিদুল্ ইসলাম

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে