ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫

যে কারণে টানা পতনে দেশের পুঁজিবাজার

২০১৮ মে ১৪ ০৬:৫২:৫৭
যে কারণে টানা পতনে দেশের পুঁজিবাজার

একটানা দরপতনের মুখে পড়েছে পুঁজিবাজার। অব্যাহত শেয়ার বিক্রির চাপের কারণে কমেই চলেছে সূচক। টানা দরপতনের কারণে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূলধন কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর সূচক হারিয়েছে ২৫৫ পয়েন্ট। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দামও কমেই চলছে।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারের এই ক্রমাগত পতনের দৃশ্যমান কোনো কারণ নেই। ব্যাংক খাতের কোম্পানিতে বছর শেষে লভ্যাংশ আশানুরূপ না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছে। যার জন্য ডিএসইতে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগ এলেও গতি পাচ্ছে না বাজার। এ ছাড়া রমজানের আগে বাজার কিছুটা ঢিমেতাল থাকলেও বর্তমান বাজারকে অস্বাভাবিক বলছেন বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, টানা পতনের বড় কারণ হলো-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করছে বেশি। সে কারণে বাজার ক্রমাগত পতনে রয়েছে। আবার তারা যখন বিক্রির চেয়ে কেনা বেশি করবে, তখনও টানা ঊর্ধ্বগতিতে থাকবে বাজার।

কেউ কেউ বলছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করলেও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে। বিক্রির চাপে কোম্পানির শেয়ার কমলে সেই শেয়ার কেনার আশায় বসে আছে তারা। ব্যাংকের সিআরআর কমানোয় প্রাতিষ্ঠানিকের হাতে টাকা এলেও বাজারে গতি আসেনি। যদিও টাকা না থাকায় শেয়ার কিনতে পারছে না বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস। কিন্তু তারা যে ঊর্ধ্বমুখীর বাজারে শেয়ার বিক্রি করেছে, সেই টাকার হদিস নেই। এমনকি প্রতিদিন বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সেল প্রেসার বাড়িয়ে দেন। যে কারণে প্রতিদিনই দিনশেষে পতনে থাকে বাজার। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সক্ষমতা নেই-এটি মোটেও সত্যি নয়।

বাজার সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ রাজনৈতকি অস্থিরতাকেও পতনের অন্যতম কারণ হিসাবে দেখছেন। তবে তারা এটাও স্বীকার করছেন যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। এটি প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে মিশে গেছে। সে কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিযে এখন পুঁজিবাজারের কেউ আর মাথা ঘামায় না। সুতরাং রাজনৈতকি অস্থিরতার কারণে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা নেমে এসেছে-এটি খুব একটা সত্যি নয়।

ডিএসই সূত্র বলছে, ডিএসইতে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগ এলে তাদের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাজারে আসবে। পুঁজিবাজারের ভিত শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে না রেখে অব্যাহতভাবেই শেয়ার বিক্রি করছে, যা পরবর্তীতে তাদেরকে বেশি দরে কিনতে হবে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের দুই পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে। এর আগেও একটানা সূচকে পতন ঘটে। লেনদেনে হ্রাস-বৃদ্ধি থাকলেও সূচকের এই পতনকে অস্বাভাবিক বলছেন বিশ্লেষকরা। রোববার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ২৮ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৬২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছিল ৪০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে ডিএসইর লেনদেন প্রায় অর্ধেকই কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুর পর থেকেই পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি থাকায় সূচক কমে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচকের পতনও বেশি হয়। এতে দিনের সূচক কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫৫৮ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ৩৩৮ কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ২১৯টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

এদিকে তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, একটানা আট কার্যদিবস সূচকের পতনের সঙ্গে বাজারের মূলধনও হ্রাস পেয়েছে। এই সময়ে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬২১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত ২৬ এপ্রিল মূলধন ছিল চার লাখ চার হাজার ৬৬৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সর্বশেষ গতকাল রবিবার এই মূলধন দাঁড়ায় তিন লাখ ৯৪ হাজার ৪৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।


শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে