ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

৩৬ গ্রাহকের কাছেই ইউসিবি’র ঋণের ৬৮ শতাংশ

২০১৮ মে ১৩ ০৬:৪৩:৫০
৩৬ গ্রাহকের কাছেই ইউসিবি’র ঋণের ৬৮ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ২৬ হাজার ১০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করে। এসব বিতরণ করা ঋণের মধ্যে বৃহৎ ৩৬ গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৭৯৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৬৮ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংক হিসাবে ইউসিবি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালের ২৭ জুন। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটি বেসরকারি খাতে ২৬ হাজার ১০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করে, আগের বছর যা ছিল ২২ হাজার ৩৬৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে

ব্যাংকটির ঋণ প্রদান বাড়ে তিন হাজার ৭৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এদিকে গত বছরের বিতরণ করা ঋণের মধ্যে বৃহৎ ৩৬ গ্রাহকে ঋণ প্রদান করা হয় ১৭ হাজার ৭৯৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৪৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর ২০১৫ সালে এসব গ্রাহককে দেওয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১৯৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

বৃহৎ গ্রাহকের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইউসিবির শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের গ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে আছে চট্টগ্রামের পোশাক রফতানিকারক শিল্প গ্রুপ ফোর এইচ গ্রুপ। এ গ্রুপটির কাছে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ৮০২ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৭৮৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় শীর্ষ ঋণ গ্রহণকারীর হিসেবে আছে দেশের ইস্পাত খাতে নেতৃত্বদানকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপ। এ গ্রুপের ঋণ ৭৯১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরে ছিল ৩৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আর তৃতীয় অবস্থানে আছে প্রাণ গ্রুপ। এ গ্রুপের কাছে ঋণ আছে ৭৮০ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

এদিকে চতুর্থ অবস্থানে আছে চট্টগ্রামের আবুল খায়ের গ্রুপ। এ গ্রুপের ঋণ আছে ৭৩২ কোটি ছয় লাখ টাকা। এছাড়া ঢাকার মণ্ডল গ্রুপের কাছে ৬৯১ কোটি ৫২ লাখ টাকা, চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের কাছে ৬৭৫ কোটি ৯২ লাখ, তমা গ্রুপের কাছে ৬৮৫ কোটি ৯৩ লাখ, জিপিএইচ গ্রুপের কাছে ৫০৯ কোটি ৬৯ লাখ, স্পেট্রা গ্রুপের কাছে ৪৬৮ কোটি ৫৫ লাখ, মাইক্রো ফাইবার গ্রুপের কাছে ৪৪০ কোটি ৬৪ লাখ, এন আর গ্রুপের কাছে ৪৮৮ কোটি চার লাখ, সিটি গ্রুপের কাছে ২০০ কোটি, হাবিব গ্রুপের কাছে ২৪৭ কোটি ৬৬ লাখ, নিটল নিলয় গ্রুপের কাছে ১৪৫ কোটি ৭২ লাখ, নিউ এশিয়ার কাছে ৩১৮ কোটি, মেট্টোর কাছে ৩৩৯ কোটি ৭৭ লাখ, অনোয়ার গ্রুপের কাছে ৩৫৯ কোটি ৩৫ লাখ, থার্মেক্স গ্রুপের কাছে ৩৫৭ কোটি ১৬ লাখ, পলমল গ্রুপের কাছে ১৪৬ কোটি তিন লাখ, বার্ড গ্রুপের কাছে ৩৭৯ কোটি ৩৮ লাখ, রিজ গ্রুপের কাছে ৩৪৭ কোটি ২১ লাখ, ম্যাক্স পাওয়ার লিমিটেডের কাছে ২২৪ কোটি ৬৩ লাখ, ম্যাক্স গ্রুপের কাছে ২১৩ কোটি ৯০ লাখ, সামিট গ্রুপের কাছে ১৮১ কোটি ৮৩ লাখ, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের কাছে ৩২৭ কোটি ৪১ লাখ, ইউনিক গ্রুপের কাছে ১৪৫ কোটি ৪১ লাখ ও স্মাট গ্রুপের কাছে ২৯৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে ইউসিবির। এর বাইরে আবদুল মোনেম গ্রুপ ৭০ কোটি ৫৪ লাখ, বরিনটেক্স ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ও বাল্ক গ্রুপ ৮২ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংকটি থেকে।

ব্যাংক খাত বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র ব্যাংকাররা বলেন, অল্প কিছু বড় গ্রাহকের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দেশের ব্যাংক খাত। এসব গ্রাহকের ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে দেশের অনেক ব্যাংকের ভাগ্যও। ঝুঁকিপূর্ণ এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উৎপাদনমুখী এসএমই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে এলেও ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলো এখনও বড় গ্রাহকদের পেছনেই ছুটছে। এতে দেশের ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় সাড়ে ৫৭ শতাংশই বড় ঋণ।

উল্লেখ্য, ইউসিবি ব্যাংক গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের সমাপ্ত বছরের আয়কর-পরবর্তী মুনাফা করে ২৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে খেলাপি ঋণ আছে এক হাজার ৯২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

শেয়ারবার্তা / মামুন

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে