ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫

পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

২০১৮ মে ১৩ ০৬:২৯:৩৭
পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

চীনা কনসোর্টিয়ামের অংশগ্রহণ প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের পুঁজিবাজার নতুন করে উপস্থিত হচ্ছে। এমনিতেই পুঁজিবাজারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন এক লাখ ৬৪ হাজারের বেশি প্রবাসী, এক বছর আগে যার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫১ লাখ। পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর হাতের নাগালে রয়েছে, যে কারণে প্রবাসীদের এই মার্কেটের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে চীন কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ায় আগামীতে প্রবাসীদের বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে প্রবাসীর সংখ্যা রয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৪। এক বছর আগে যার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৫১ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসীদের সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ১৪ হাজার। গত বছর প্রবাসীদের সংখ্যা এক লাখ ৪০ হাজার থেকে বেড়ে এক লাখ ৫১ হাজারে আসে।

এদিকে চীনা কসসোর্টিয়াম দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হলে প্রবাসীদের এই বাজারের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে পছন্দ করেন। আর তারা বাজারে ঢুকতে চান যখন বেশিরভাগ শেয়ারের দর ক্রয়ের অনুকূলে থাকে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে এমন পরিবেশ বিরাজ করছে, যে কারণে বাজারের প্রতি সবার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

পুঁজিবাজারের সঙ্গে চীনের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তারা বলেন, চীনা কনসোর্টিয়ামের ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলে পুঁজিবাজার যেমন শক্তিশালী হবে তেমনি দেশের অর্থনীতির জন্যও এটা কল্যাণ বয়ে আনবে। তাদের যুক্তি চীনা কনসোর্টিয়াম দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত হলে তারা মালিকানা পাবে। আর মালিকানা পেলে অবশ্যই তারা এই মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করবে। মার্কেটে যুক্ত হবে নতুন নতুন পণ্য, আসবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

চীনা কনসোর্টিয়াম ডিএসইতে যুক্ত হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ বাড়বে। এর পাশাপাশি বাড়বে প্রবাসীদের আগ্রহ। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে তাদের বিনিয়োগ, যা পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে। চীনের টেকনোলজি যুক্ত হলে সার্ভিলেন্স আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তারা। তাদের অভিমত এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতার জায়গাটি আরও পরিষ্কার হবে। চীনের পুঁজিবাজারে অসংখ্য বড় বিনিয়োগকারী রয়েছে। তাদের কিছু অংশ যদি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে, তবে এই বাজার আরও শক্তিশালী হবে।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা অনেক ভেবেচিন্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন। বেশিরভাগ সময়ই তারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করে থাকেন। ফলে তাদের লোকসান কম হয়। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে চীনের যুক্ত হওয়া আমাদের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজার উভয়ের জন্য ভালো। আর বাজার হলে দেশি-বিদেশি সব ধরনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রবাসীর অংশগ্রহণ সব সময় পুঁজিবাজারকে আরও গতিময় করে তোলে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কী কিংবা এর সম্ভাবনা কতটুকু তা প্রবাসীদের জানানো। তারা বাজার পরিস্থিতি জানতে পারলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’

পুঁজিবাজারে প্রবাসীদের আগ্রহ কীভাবে বাড়ানো যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, তারা সব সময় পুঁজিবাজারের খবর রাখেন। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, দেশি কিংবা প্রবাসী সবাই ব্যবসা করার জন্য পুঁজিবাজারে আসেন। তাই তারা যখন বুঝবেন পুঁজিবাজারে আসা দরকার তখনই তারা এর সঙ্গে যুক্ত হবেন।

শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে