ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫

ছয় সপ্তাহ আগের অবস্থানে দেশের পুঁজিবাজার

২০১৮ মে ১১ ০৫:৪৫:৪১
ছয় সপ্তাহ আগের অবস্থানে দেশের পুঁজিবাজার

ছয় সপ্তাহ পর দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির অব্যাহত দরপতনই এর প্রধান কারণ। সূচকের এই পতনে সর্বাধিক ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাতের শেয়ার।

বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ৪০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৫৮৭ পয়েন্টে নেমেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৪টির পতন হয়েছে। তিন ব্যাংকের দরবৃদ্ধির পরও এ খাতের কারণে সূচক কমেছে ২৮ পয়েন্ট।

গত ১ এপ্রিল একদিনে দেড়শ' পয়েন্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচকটি ৫৬০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। এরপর ১০ এপ্রিল সূচকটি সর্বোচ্চ ৫৯০৮ পয়েন্টে উঠেছিল। এরপর থেকে কমছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এক মাস ধরে সূচক কমছে। এ সময়ের ২০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৫ দিনেই সূচক কমেছে। সার্বিক বিচারে সূচক হারিয়েছে ২৯২ পয়েন্ট। এর মধ্যে ১৫ দিনে সূচক কমে ৪০৫ পয়েন্ট। বাকি ৫ দিনে বেড়েছে ১১৩ পয়েন্ট। এদিকে সর্বশেষ সাত কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচকটি টানা ২২৬ পয়েন্ট হারিয়েছে। এর আগে গত ১৫-২৬ ফেব্রুয়ারি টানা সূচক কমেছিল ৩২৭ পয়েন্ট।

চলতি দরপতনের কারণ বিষয়ে বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতনে ক্রমাগত সূচক কমছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রায় সব ব্যাংকেরই মুনাফা কমেছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বেশ খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংক খাত। এর প্রভাবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর শেয়ারদর কমছে।

এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপও শেয়ারদর হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখছে। সংশ্নিষ্টরা জানান, বিদেশিরা বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ার ধারণ করায় এসব শেয়ারের বিক্রি বাড়লে সূচকও বেশি কমে।

সার্বিক বিচারে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমেছে, যা মোটের ৫৯ শতাংশ। বিপরীতে বেড়েছে ৮৯টির দর, যা মোটের ২৭ শতাংশ। বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত। খাত হিসেবে তথ্য ও প্রযুক্তি এবং সেবা ও নির্মাণ খাত ছাড়া অন্য সব খাতের অধিকাংশ শেয়ারের দর কমেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের শেয়ারদর গড়ে দেড় শতাংশ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের সোয়া ১ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রায় ১ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

জানতে চাইলে শীর্ষ মার্চেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অবিশ্বাস্য কম মুনাফার তথ্য দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা আছে। অনেকে এ অবস্থায় শেয়ার ছাড়ছেন বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে শেয়ারগুলো দর হারাচ্ছে।

ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট সমাধানে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একগুচ্ছ নীতি সহায়তা দিলেও খাতটির এমন দুরবস্থার কারণ কী- এমন প্রশ্নে একটি ব্যাংকের মালিকানাধীন শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তা বলেন, সিআরআর ১ শতাংশ কমানোর ফলে ব্যাংকের দৈনন্দিন চাহিদা মেটানোর জন্য যে অর্থের সংকট ছিল, তা মিটেছে। এরপরও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য অর্থের ঘাটতি আছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার সুযোগ হলেও এখনও তারা আমানত নিয়ে আসছে না। ফলে তারল্য সংকট রয়েই গেছে।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংক খাত শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় মূলধনী খাত হওয়ায় সূচকে খাতটির অবদানও বেশি। এ কারণে ব্যাংকের শেয়ারদর কমলে সূচকও কমে। আবার সূচক কমলে মনস্তাত্ত্বিক ভীতি থেকে বিনিয়োগ কমিয়ে দেন অনেকে। ফলে দরপতন ত্বরান্বিত হয়।

অপর এক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ কিছুটা কমাচ্ছে। এর কারণ সুস্পষ্ট নয়।

এদিকে ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন প্রশ্নে সৃষ্ট বিতর্কের অবসানের প্রেক্ষাপটে বাজার পরিস্থিতি উন্নতি হবে- এমন ধারণা ছিল বিনিয়োগকারীদের অনেকের। তবে বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় বিভ্রান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক বলেন, চীনারা ডিএসইর অংশীদার হওয়া মাত্রই ডিএসইর চেহারা পাল্টে যাবে এমন নয়। তবে ধীরে ধীরে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তার সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়বে।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে