ঢাকা, সোমবার, ১৩ আগস্ট ২০১৮, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৫

গুজব বিনিয়োগকারীদের বেশি আকৃষ্ট করে

২০১৮ এপ্রিল ২৩ ০৬:১৫:২৩
গুজব বিনিয়োগকারীদের বেশি আকৃষ্ট করে

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

আমাদের দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের ভিত্তিতে খুব কমই বিনিয়োগ করেন। তারা এ ধরনের অ্যানালাইসিসে ভরসা বা আস্থা রাখতে পারেন না। বরং বাজারের নানা গুজব বা শেয়ারের দর বৃদ্ধি তাদের বেশি আকৃষ্ট করে। ফলে তারা অধিকাংশ সময় বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই বলা হয়-বাজারের ওঠানামার জন্য বিনিয়োগকারীদের মানসিকতাই ৬০ শতাংশ দায়ী। তারা যখন ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, তখন বাজার ভালো হয়। আর যখন হতাশাগ্রস্ত হন, তখন পতন নেমে আসে। রোববার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আমার স্টক লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর ও ট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মহসীন।

মোহাম্মদ আলী জাহাঙ্গীর বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের একটি বিষয় থাকে। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস অনেকগুলো সূচক বা নির্দেশক ব্যবহার করে করতে হয়। কেউ যদি টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে তাকে কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে সহজ দুটি পদ্ধতি আছে। একটি হচ্ছে মুভিং অ্যাভারেজ কনভারজেন্স ডাইভারজেন্স (এমএসিডি)। এক্সিম ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যখন এমএসিডি অতিক্রম করে, তখন শেয়ারটির দর ছিল ২৩ টাকার ঘরে। সে সময় এমএসিডি সূচক বা নির্দেশনা দিয়ে যারা শেয়ার কিনেছিলেন, তারা তখনও শেয়ারটি ধরে রাখবেন। আর তারা শেয়ারটি তখনই ছাড়বেন যখন এমএসিডি গ্রাফের নীল দাগ লাল দাগকে অতিক্রম করে নিচের দিকে নেমে যাবে, তখন। এ নিয়ম বা পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেকেই শেয়ার কেনাবেচা করেন এবং এটি একটি ভালো পদ্ধতি হতে পারে শেয়ার সংগ্রহের ক্ষেত্রে। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের আরও একটি বিষয় হচ্ছে রিলেটিভ স্ট্রেংথ ইনডেক্স বা আপেক্ষিক শক্তি সূচক। সংক্ষেপে আরএসআই।

মুহাম্মদ মহসীন বলেন, বিনিয়োগের সময় কোনো কোম্পানির এমএসিডি গ্রাফের চিত্রে লাল ও নীল দাগ যদি ওপরের দিকে যেতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে বাজার আক্রমণাত্মকভাবে ওপরের দিকে যাবে। আর যখন নীল দাগ নিচের দিকে মোড় নেবে, তখন বুঝতে হবে সামনে বাজার হয়তো ধীরগতিতে যাবে। কিন্তু যে সময় পর্যন্ত নীল দাগটি লাল দাগ অতিক্রম করে ওপরের দিকে যেতে থাকবে, সে সময় পর্যন্ত বাজারের ভলিউম অনেক উচ্চপর্যায়ের থাকবে। তখন বুঝতে হবে সামনে ক্রয়চাপ আরও বাড়বে। আর যে সময় পর্যন্ত নীল দাগটি ওপরের দিকে থাকবে, তত সময় পর্যন্ত শেয়ারটি মুভ করবেই।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আমরা শিখিয়ে দিই কখন শেয়ার কেনাবেচা করতে হবে; কিন্তু অধিকাংশই সে নিয়ম মানেন না। মানে তারা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস শিখলেও কার্যক্ষেত্রে ব্যবহার করেন না বা উল্টোটি করেন। আর লোকসান হলে সবাই দোষ দেন টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসদের। টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস অনুসারে যখন শেয়ার কেনা বা বিক্রি করার কথা, তখন কেউ তা করেন না। এ সময় তারা টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিসের আদেশ বা নির্দেশনা না মেনে নিজেদের মনস্তাত্ত্বিক ইচ্ছা বা গুজবকেই বেশি গুরুত্ব দেন। যে কারণে বড় অ্যানালাইসিস্টরা বলেন, বাজার ভালো করার জন্য বিনিয়োগকারীদের মানসিকতাই ৬০ শতাংশ দায়ী।

শেয়ারবার্তা / শহিদুল ইসলাম

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে