ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৫ কার্তিক ১৪২৫

ওটিসি থেকে বাদ পড়ছে ৩৪ কোম্পানি, দুচিন্তায় বিনিয়োগকারীরা

২০১৮ মার্চ ১৯ ০৬:২৮:২৪
ওটিসি থেকে বাদ পড়ছে ৩৪ কোম্পানি, দুচিন্তায় বিনিয়োগকারীরা

ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে বাদ পড়ছে ৩৪টি কোম্পানি। ওটিসি মার্কেটে এসব কোম্পানির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে এবং এসব প্রতিষ্ঠান আইনও মেনে চলছে না। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশিন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা পড়েছে। ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠনে তৈরি কমিটি সম্প্রতি এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। খুব শিগগির এ প্রতিবেদন নিয়ে বৈঠক করবে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ওটিসি মার্কেট পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ওটিসি থেকে অস্তিত্বহীন কোম্পানি বাদ পড়ছে এমন খবরে দুচিন্তায় রয়েছে ওটিসি মার্কেটের ৩৪ কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা। বর্তমানে ডিএসইর ওটিসিতে ৬৬টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে মাত্র ৩২টি বিদ্যমান আইন অনুসরণ করে। এ ৩২টিকেই শুধু ওটিসিতে রেখে বাজার পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ওটিসি থেকে ৩৪ কোম্পানি বাদ পড়ে যাবে, যেগুলোর বড় অংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই।

এর আগে গত মার্চে ওটিসি মার্কেট কার্যকর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিদ্যমান আইনের সংশোধন প্রস্তাব দেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এর পর কমিশনও ওটিসিকে পুনর্গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। এতে মূল পুঁজিবাজারের মতো ওয়েববেজড ইলেট্রনিক ব্যবস্থায় লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হবে। এ বাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। বাজারকে কার্যকর করতে বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডও এ প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে কেনাবেচার সুযোগ সৃষ্টি করবে। বর্তমানে এ ধরনের ২৬ ফান্ডের আকার অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই, এমনিতেই এসব শেয়ার নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ এখানে তাদের লাখ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। তবে ওটিসিতে থাকার কারণে এখনও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পুঁজি ফিরে পাবে এমন প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু টাকা ফেরতের কোনো ব্যবস্থা না করে যদি এসব প্রতিষ্ঠানকে ওটিসি থেকে তালিকাচ্যুত করা হয়, তবে সমস্যা আরও জটিল হবে। কারণ তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কোনো দায়ভার থাকবে না। তাই কোম্পানিগুলো ওটিসি থেকে বাদ দেওয়ার আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের যথাবিহিত ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওটিতে থাকা কিছু প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব একবারেই নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও খুঁজে পাওয়া যায় না। কোম্পানিগুলো হলোÑবাংলাদেশ ইলেকট্রিসিটি মিটার কোম্পানি বেমকো, চিক টেক্সটাইল, রাসপিট ডাটা, রাসপিট ইনকরপোরেশন, এম হোসেন গার্মেন্টস, ফার্মাকো, আমান সি ফুড, জার্মান বাংলা ফুড, মেটালিক্স, রাঙামাটি ফুড ও সালেহ কার্পেট। এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীদের প্রায় চার কোটি ৮৭ লাখ শেয়ার রয়েছে, আনুমানিক যার বাজারমূল্য ৪০০ কোটি টাকার বেশি। যে কারণে এখনও এসব কোম্পানির খোঁজ করেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। এর কোথাও আবাসিক বাসা, আবার কোথাও বেসরকারি ক্লিনিক ও অন্য প্রতিষ্ঠান।

গত বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি বাজারকে কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনের সংশোধনের জন্য ‘ডেভেলপমেন্ট ওটিসি মার্কেট অব বাংলাদেশ’ নামে একটি কমিটি করা হয়। তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক বিএসইসির পরিচালক মো. মনসুর রহমান। অপর দুই সদস্য হলেন উপপরিচালক শেখ মো. লুৎফর কবীর ও মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

শেয়ারবার্তা / জুয়েল

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে