ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

পুঁজিবাজারে আইসিবি বড় গ্যাম্বলার

২০১৮ মার্চ ১৭ ০৬:৫৩:২২
পুঁজিবাজারে আইসিবি বড় গ্যাম্বলার

পুঁজিবাজার একটি সংবেদনশীল জায়গা। এখানে আইসিবিকে গঠন করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে তারা পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইসিবি কি সে ভূমিকা পালন করছে? পুঁজিবাজারে আইসিবিই সবচেয়ে বড় প্লেয়ার বা মেকার বা গেম্বলার-যাই বলা হোক না কেন। এখানে ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান আইসিবির ধারেকাছেও নেই। আর আইসিবির গেম্বলিং করা মানে সরকারের গ্যাম্বলিং করা। এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে শুক্রবার বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জহিরুল ইসলাম এবং দ্য ডেইলি স্টারের বিজনেস এডিটর সাজ্জাদুর রহমান।

জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে যে পরিমাণ লেনদেন হচ্ছে সেটি যদি চলতে থাকে তাহলে বাজার টেকসই হবে না। তাছাড়া সম্প্রতি পুঁজিবাজারে অনেক করপোরেট ব্রোকার্স এসেছে এবং তারা অধিক বিনিয়োগ করে ও অনেক লোকবল নিয়ে বাজারে আছে। ফলে বাজারের এমন অবস্থা তাদের জন্য খুব খারাপ সময়। তাদের মধ্যে অনেককেই বলতে শুনেছি যে, এভাবে চললে আমরা কীভাবে টিকব? বাজারে এখন অর্থের প্রবাহ নেই বললেই চলে এবং তা অনেকগুলো কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। যারা বাজারকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি তারা কিন্তু এখন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে।

তিনি বলে, দেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো ভালো ভূমিকা পালন করে এসেছিল, কিন্তু তারা এখন পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। এমন অবস্থা হওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে এডি রেশিওর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এডি রেশিওর বিষয়টি আসার পরে মুদ্রাবাজারে একটু অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে এবং সুদের হারও অনেক বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগেও সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে ছিল, কিন্তু এখন সেটি ডাবল ডিজিট হয়ে গেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি ১২-১৩ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে গেছে। আর লিজিং কোম্পানিগুলো তো আরও বেশি প্রস্তাব করছে। ফলে পুঁজিবাজার থেকে কিছু ফান্ড এরই মধ্যে ব্যাংকে চলে গেছে এবং এখনও যাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিকেও থামানো সম্ভব। এর জন্য একটু সমন্বয়ের প্রয়োজন। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের ঊর্ধ্বতনরা বসে একটু সমন্বয় করে চিন্তাভাবনা করে যদি এগোয়, তাহলে বাজার আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে মনে করি।

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার একটি সংবেদনশীল জায়গা। এখানে আইসিবিকে গঠন করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে তারা পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আইসিবি সে ভূমিকা পালন করছে কি না? আমার মতে, দেশের বাজারে আইসিবিই সবচেয়ে বড় প্লেয়ার বা মেকার বা গ্যাম্বলার-যা-ই বলুন না কেন। এখানে ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান আইসিবির ধারেকাছেও নেই। আর আইসিবির গেম্বলিং করা মানে সরকারের গেম্বলিং করা। দেশের অর্থনীতির সব সূচকই এখন ভালো, তার পরও বাজারের এমন অবস্থা-সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক একটি অনিশ্চয়তার গুজব ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, কিন্তু সেসময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো অস্থিতিশীলতা দেখা যায়নি। কিন্তু এখন বাজারের এমন অবস্থা হচ্ছে কেন, সেটাই আসলে চিন্তার বিষয়।

শেয়ারবর্তা /

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর

উপরে