ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫

ডিএসই’র বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ

২০১৮ মার্চ ১৩ ০৭:০৩:২৫
ডিএসই’র বিরুদ্ধে অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ

আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া পুঁজিবাজার ঠিকমতো কাজ করছে না বলেও মন্তব্য করেছেন তারা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল অর্থবিভাগ আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ উদ্যোগ প্রকাশ করেন তারা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ব্যাংক খাত দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতার সম্মুখীন। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। এছাড়া পুঁজিবাজারও কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বারংবার সময় ও খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না, তাদের জরিমানা করা উচিত। একই সঙ্গে নির্বাচনের বছরে যাতে খেলাপি ঋণ মওকুফের সংস্কৃতি পরিহারের পরামর্শ দেন তিনি।

সাবেক অর্থ সচিব মতিউল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ-আমানত অনুপাত (এডি রেশিও) কিছুটা শক্ত করেছে। এতে ব্যাংকগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো হবে বলে মনে করি। এ সিদ্ধান্ত ছয় মাসের প্রতিপালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি পালন করতে গিয়ে ব্যাংকগুলো আমানত সংগ্রহের চাপে পড়েছে। আমি মনে করি, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এক বছর সময় দেওয়া উচিত। আর আমানতের ঘাটতি কমাতে সরকারের বিভিন্ন তহবিল বেসরকারি ব্যাংকের রাখার অনুমতি দেওয়া উচিত।

সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতা বেড়েছে ঠিক। কিন্তু এসব কাজের গুণগত মান খুবই খারাপ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বাংলাদেশ উত্তরণের পর বড় ধরনের বিনিয়োগ লাগবে। সে বিষয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংক অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ সম্পর্কিত কোনো আইন নেই। তাই একীভূতকরণ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে আইন প্রণয়ন করতে হবে। বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে মূলত বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রণোদণামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। কিন্তু তারা সেটার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণমূলক কাজই করে থাকে।

সাবেক অর্থসচিব ড. মোহাম্মদ তারেক বলেন, বর্তমানে শুধু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। শুধু এডিপি নয়, পুরো বাজেটই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। তিনি বলেন, বাজেট একটি নীতিগত দলিল। এতে সরকারের অগ্রাধিকারগুলো নির্দিষ্ট করে সেগুলো বাজেটে পরিপালনের উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত শিক্ষা খাতকে। দাতা সংস্থাগুলোর অর্থে গবেষণা করা হলে তা দেশের জন্য খুব বেশি ফলপ্রসূ হয় না উল্লেখ করে তিনি দেশি অর্থে গবেষণা জোরদারের পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ‘রিয়েল সেক্টর ডাটা’ পাওয়া যায় না উল্লেখ করে পরিসংখ্যানের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রতি বছর বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন জোগান দিতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কতদিন ধরে এটা অব্যাহত থাকবে? এ ধরনের কার্যক্রম বছরের পর বছর চলতে পারে না।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) অর্থায়ন সংকট দেখা দেবে। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টগুলো (এসডিজি) বাস্তবায়নে এ সংস্থাগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এমডিজি বাস্তবায়নে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাই শুধু বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল এনজিওগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই সরকারের বিভিন্ন ভিশন ও আন্তর্জাতিক এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নে সরকারের সিস্টেমের মধ্যে এনজিওগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি এসডিজি অর্জনে এনজিওগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে একটি এসডিজি ট্রাস্ট ফার্ড গঠনের প্রস্তাব দেন।

সবশেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বক্তব্য রাখেন। পুঁজিবাজারের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ঠিকমতো ভূমিকা পালন করছে না। যে কারণে পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারছে না। বেসরকারি ব্যাংকে সরকারের বিভিন্ন তহবিলের আমানত রাখার প্রস্তাব ভালো প্রস্তাব বলে তিনি বলেন।

খেলাপি ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, খেলাপি সংস্কৃতি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই চলে আসছে। তবে নির্বাচনী বছরে কোনো খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হবে না বলে তিনি জানান।

শেয়ারবার্ত/ মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে