ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বাড়াতে ডায়িং প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটিজ স্থাপন: জিল্লুর রহমান

২০১৮ মার্চ ১২ ১১:৪৪:৫৯
তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বাড়াতে ডায়িং প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটিজ স্থাপন: জিল্লুর রহমান

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে গত নভেম্বর মাসে ডায়িং প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটিজ স্থাপন চালু করা হয়েছে। যা চলতি বছরের জুনের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদনে যাবে। যাতে তসরিফার উৎপাদন বাড়বে।

মো. জিল্লুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (ব্যবস্থাপনা) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০০৪ সালে ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেটস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সহযোগী সদস্য এবং ২০১০ সালে ফেলো সদস্য হন। তিনি ২২ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সেক্টর ও উৎপাদন খাতে কাজ করছেন। তিনি বর্তমানে তসরিফায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

একান্ত সাক্ষাতে তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. জিল্লুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন রিপোর্টার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। সাক্ষাতের চৌম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ সম্পর্কে বলুন?

মো. জিল্লুর রহমান : শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কোম্পানি তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের পুরোপুরি পরিবেশ বান্ধব বিশ্বমানের গ্রীন প্রতিষ্ঠান এটি। এখানে তৈরি হচ্ছে উন্নত মানের নিটিং কাপড়, গার্মেন্টস ডায়িং, প্রিন্টিং এবং প্যাকেজিং। তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ ২৭ আগস্ট ২০০২ সালে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। পরে ২০০৫ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ২০১৫ সালে তসরিফা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এ সময়ের মধ্যে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালন করে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে কোম্পানিটি। তসরিফা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ও রুচি সম্মত তৈরি পোশাক পণ্যের মাধ্যমে সেবা দিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বড় ক্রেতা হিসাবে অন্যতম দেশের মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি। এছাড়া জাপান ও রাশিয়াতেও আমাদের পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি পোশাক প্রসঙ্গে বলুন?

মো. জিল্লুর রহমান : তসরিফা স্থানীয় এবং বিদেশী উৎস থেকে সুতা সংগ্রহ করে। পরে তা প্রক্রিয়াজাত করে কাপড়ে রূপান্তর করে। ক্রেতার চাহিদা অনুয়ায়ী ফ্রেবিক্স হয়। সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ডায়িংসহ পোশাক নিখুতভাবে সেলাই হয়ে থাকে। এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের দক্ষ ডিজাইনার রয়েছে। এরা ক্রেতাদের পছন্দ মতো প্রিন্টিং, টেকসই সেলাই ও বিভিন্ন সাইজের আরামদায়ক পোশাক তৈরি করে। তসরিফা বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডের রুচিসম্মত পোশাক প্রস্তুত পণ্য সরবরাহ করে। ক্রেতার অর্ডারের উপর নির্ভর করে এসব পোশাক তৈরি হয়। তসরিফার প্রধান উৎপাদন পণ্য হলো- পোলো শার্ট, টি-শার্ট, টপ ইত্যাদি।

তসরিফার উৎপাদন বাড়ানোর কোন পরিকল্পনা আছে কি?

মো. জিল্লুর রহমান : অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে তসরিফার ব্যবসা দিন দিন বড় হচ্ছে। পাশাপাশি মূলধনের আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষে রয়েছে মার্স্টার প্লান। ইতিমধ্যে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সুইংয়ের জন্য একটি ফ্লোর বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে ডায়িং প্রজেক্ট ফ্যাসিলিটিজ স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, চলতি বছরের জুনের মধ্যে ডায়িং প্রজেক্ট পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। এ প্রজেক্টের মোট ব্যয় ১৬৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোম্পানিটি আইপিও’র ৬১ কোটি টাকা এখানে ব্যয় হয়েছে। বাকী ১০২ কোটি টাকা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া টঙ্গিতে তসরিফার যে ফেব্রিক্স ডিভিশন বা নিটিং ফ্লোর রয়েছে তা অন্য স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। আর সেখানে আরেকটি ডায়িং প্রজেক্ট করা হবে। এ প্রজেক্ট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। যা কোম্পানির নিজস্ব তহবিল ও ঋণের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। এসব প্রজেক্টের কাজ শেষ করে পুরোপুরি উৎপাদনের সুফল পেতে আমাদের সর্বোচ্চ আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। আশা করি, আড়াই বছর পর আমাদের উৎপাদন ও বিক্রয় বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন হবে।

তসরিফার ঝুঁকি হিসেবে কি দেখছেন?

মো. জিল্লুর রহমান : ব্যবসায় ঝুঁকি রয়েছে। এটি থাকবেই। বিশ্ববাজারে কাপড়ের দাম পড়ে যাচ্ছে। তাদের অভ্যন্তরীণ ক্রয় ক্ষমতা কমে গেছে। যেমন আগে ক্রেতারা (বায়ার) একটা পোলো শার্ট যে ডলারে কিনতো, এখন তা আরও কম ডলারে কিনতে চায়। সেই তুলনায় আমাদের উৎপাদন ব্যয় কিন্তু কমছে না। তাই চাপ আছে। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন ক্রেতারা খুব কম সময়ে পণ্য পেতে চায়। আগে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডারের পর পণ্য তৈরির সময় পাওয়া যেত সবোর্চ্চ ৬ মাস। কিন্তু এখন তা ২ মাসে চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের ফ্যাক্টরিগুলোর রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব শোচনীয়। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা শ্রম ঘন্টা নষ্ট হচ্ছে। আবার দক্ষ শ্রমিকের অভাব তো আছেই। যাই হোক তসরিফার দক্ষ ব্যবস্থাপনা দিয়ে সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করে ক্রেতাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারনে নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে কি?

মো. জিল্লুর রহমান : তসরিফার কারখানা সরকারের শিল্প নগরীতে নয়। প্রাইভেট ল্যান্ডে করা হয়েছে। দেশের বস্ত্র খাত গ্যাসের সংকটের কারনে হুমকির মুখে পড়লেও তসরিফায় সেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। কারন গ্যাসের বদলে আমাদের বিকল্প ব্যবস্থা আছে। সেই জন্য সরকারের সহায়তা সবর্দাই ছিল। কোম্পানির নিজস্ব তত্বাবধানে হাস বয়লার দিয়ে উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তাই গ্যাস সংকট থাকলেও তেমন ক্ষতি হচ্ছে না কোম্পানির উৎপাদনে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। সুখবর রয়েছে, তসরিফার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। যা চলতি মাসের শেষ দিকে সাপ্লাই পাওয়া যাবে। গ্যাস পেলে তখন আমাদের উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে। কি পরিমান ব্যয় কমবে সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না।

ব্যবসায় মুনাফা কমার প্রসঙ্গে কিছু বলুন?

মো. জিল্লুর রহমান : ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের পহেলা জুলাই রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের হলি আর্টিজান বেকারি ও রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার কারনে বিদেশিদের আনাগোনায় ভাটা পড়ে। ফলে তসরিফাসহ দেশের বস্ত্র খাতের ব্যবসায় মন্দা নামে। এ কারনে সেই সময় তসরিফার ক্রেতাদের আসা কমে যায়। এর কারনে আমাদের অর্ডারও কমে গিয়েছিল। কিন্তু ব্যয় ঠিকই হয়েছিল। ফলে ব্যবসার বিক্রয়সহ মুনাফা কমে যায়। কিন্তু গত বছরে মাঝামাঝিতে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এ কারনে ক্রেতারা আবার এদেশে ফিরেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অর্ডারও। ফলে দেশের গার্মেন্টস ব্যবসায় আবারও চাঙ্গা ভাব ফিরে এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব সামনে পাব।

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে