ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫

রেকর্ড মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় ব্যাংকের আমানত

২০১৮ মার্চ ১১ ০৮:১৩:৫৫
রেকর্ড মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় ব্যাংকের আমানত

দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মার্চ মাস শেষে এই আমানত ১০ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছুঁতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর তা হবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ আমানত। বর্তমানে ব্যাংক খাতে যে আমানত দাঁড়িয়েছে তা সরকারের চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় আড়াই গুণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে যার পরিমাণ ছিল সাত লাখ ৯৩ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ছিল সাত লাখ ৪৬ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১৭ শেষে ব্যাংক খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে যে আমানত দাঁড়িয়েছে তা সরকারের চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের প্রায় আড়াই গুণ। সরকার গত জুনে চলতি অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার রেকর্ড বাজেট ঘোষণা করেছে। আর দেশের ৫৭টি ব্যাংকে ডিসেম্বর মাস শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকগুলোতে আমানত বাজেটের দুই দশমিক ৩৩ গুণ বেশি। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোতে যে আমানত রয়েছে তা দিয়ে বর্তমান বাজেট অনুযায়ী দুই বছরেরও বেশি সময়ের ব্যয় মেটানো যাবে।

তথ্যমতে, গত নয় বছরে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিন গুণ। ফলে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা বেড়েছে। তবে নতুন বছরের শুরুতে ব্যাংকগুলোকে নগদ টাকার টানাটানি দেখা দিয়েছে, যার ফলে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদ হার বাড়িয়ে দিয়ে আমানত সংগ্রহের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৭৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। বর্তমান ব্যাংকে মোট আমানত দাঁড়িয়েছ ৯ লাখ ২৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ টাকার হিসেবে আট বছরে আমানত বেড়েছে ছয় লাখ ৪৭ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। এই পরিমাণও বাজেটের প্রায় দেড়গুণ। মোট আমানতের দুই লাখ ১৪ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা আবার রয়েছে দেশে পরিচালিত আটটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে।

ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ঋণের এই পরিমাণ সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়ে, যা ২০০৮ সালে ছিল দুই লাখ ৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১০ বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ছয় লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় চার গুণ।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে