ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫

ব্যাংকসুদ খেয়ে ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা

২০১৮ মার্চ ১০ ০০:২১:২৯
ব্যাংকসুদ খেয়ে ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা

ব্যাংক ঋণের সুদ খেয়ে ফেলেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের মুনাফা। আগের বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরে কোম্পানিটির ব্যাংকঋণ বেড়েছে ৯৩ কোটি টাকা। এ কারণে বিদায়ী অর্থবছরের উৎপাদন ও বিক্রয় বাড়লেও ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে লোকসানে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাংক ঋণের সুদ কোম্পানিটির মুনাফা খেয়ে ফেলায় লভ্যাংশ বঞ্চিত হয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন মতে, ২০১৬ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির মোট ব্যাংকঋণ ছিল ১৭০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ঠিক এক বছর পর এটি বেড়ে দাঁড়ায় ২৬৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় ব্যাংক দায় বৃদ্ধি পায় ৯৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আর এ জন্য ঋণের সুদ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে অতিরিক্ত ২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়।

অন্যদিকে গত ২০১৬-১৭ সালের সমাপ্তবছরে কোম্পানিটি দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭৪৭ টন সিমেন্ট বিক্রি করেছে, যার নিট মূল্য ১৫৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এটা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ১৭ কোটি ছয় লাখ টাকা। আগের ১৮ মাসে (২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের জুন) এর পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

এদিকে গত ২০১৬-১৭ হিসাববছরে আরামিট সিমেন্টের নিট লোকসান দাঁড়ায় ১০ কোটি ছয় লাখ টাকা। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় দুই টাকা ৯৭ পয়সা। যদিও তার আগের ১৮ মাসে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছিল দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ সময় আরামিট সিমেন্টের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৮৪ পয়সা। এছাড়া গত হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভিপিএস) হ্রাস পেয়েছে। ২০১৬-১৭ হিসাববছরে এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১১ টাকা ১৬ পয়সা, আগের ১৮ মাসে যা ছিল ১৪ টাকা ৩৩ পয়সা।

জানা যায়, দেশের সিমেন্ট খাতে গত অর্থবছরের বিক্রয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পরিচালনা ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাজারের কাঁচামালের দর বৃদ্ধি, দেশীয় বাজার অন্যান্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে প্রায় সবগুলো কোম্পানির কমেছে মোট লাভ, অপারেশন লাভ এবং আয়কর পরবর্তী লাভ। ফলে সমাপ্ত অর্থবছরের প্রায় সবগুলোর কোম্পানির কর পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে। একই অবস্থা হয়েছে আরামিট সিমেন্টের ক্ষেত্রেও। তবে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে কোম্পানিটি লোকসানে চলে গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে শেয়ারবাজারে আসা এ কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালক ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৬ দশমিক ৯৯ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৩৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ শেয়ার।

শেয়ারবার্তা / মামুন

অনুসন্ধানী রিপোর্ট এর সর্বশেষ খবর

উপরে