ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

লোকসানি দুই কোম্পানির শেয়ার দরে চমক!

২০১৮ মার্চ ০৯ ০৭:১৭:২৯
লোকসানি দুই কোম্পানির শেয়ার দরে চমক!

পুঁজিবাজারে কাগজ ও প্রকাশনা খাতের তালিকাভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানেরই আর্থিক অবস্থা নাজুক। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে ‘হাক্কানী পাল্প’ ও ‘খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’। কোনো কারণ ছাড়াই সারা বছর অস্বাভাবিক হারে দর হ্রাস-বৃদ্ধির চমক দেখাচ্ছে প্রতিষ্ঠান দুটি। বাজারসংশ্লিষ্ট থেকে শুরু করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কেউই জানেন না এর রহস্য কী! ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির শেয়ার নিয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

হাক্কানী পাল্প লিমিটেড : গত বছরের মাঝমাঝি সময়ে কোনো কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিকহারে বাড়তে থাকে হাক্কানী পাল্পের শেয়ারের দর। তিন মাসের ব্যবধানে শেয়ারের দর বাড়ে প্রায় ৮৩ শতাংশ। তিন মাসে ৫২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে দর বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ টাকায়। এ সময়ে বাজারে গুজব ছিল যে, প্রতিষ্ঠানটি খুব শিগগিরই নতুন একটি প্রকল্প চালু করবে। পরে কোনো কারণ ছাড়াই আবার এর শেয়ারদর কমতে থাকে এবং দর নেমে আসে ৪৮ টাকায়।

এদিকে দর কমার পর বর্তমানে আবারও সচল হয়েছে পুরোনো গুজব। প্রতিষ্ঠানটি নতুন উৎপাদনে যাচ্ছে--এমন গুজবে আবারও বাড়ছে দর। বর্তমানে এ শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ৫৬ টাকা থেকে ৫৭ টাকার মধ্যে।

তবে হাক্কানী পাল্পের নতুন উৎপাদনের খবরের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য হচ্ছে গুজব কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি ফায়দা লুটছে। প্রতিষ্ঠানের সচিব মোহাম্মদ মুসা এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কেন বাড়ছে, সেটা বলতে পারছি না। তবে আমাদের কাছে দর বৃদ্ধির কোনো সংবেদনশীল তথ্য নেই।’

আগামীতে নতুন টিস্যুর প্রজেক্ট চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি প্রকল্প চালুর কথা রয়েছে, তবে এর জন্য সময়ের প্রয়োজন। ফলে এর সঙ্গে দর বৃদ্ধির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্যবসা মন্দা থাকায় লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এ প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছিল ৮৫ লাখ টাকা। ২০১৬ সালে লাভের বদলে এক কোটি ৩৭ লাখ লোকসান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয় এক কোটি ৮১ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন থেকে শেয়ারহোল্ডারের পাঁচ শতাংশ শেয়ার প্রদান করে কোনো রকমে ‘বি’ ক্যাটেগরি টিকিয়ে রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সর্বশেষ বছরে ক্যাটেগরি ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি।

২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৫.৫২ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ৩৬.১৬ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বাকি ৮.৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের কাছে শেয়ারের পরিমাণ ছিল ৫৭.২৯ শতাংশ। পরে তারা ১.৭৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে দেন।


খুলনা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিমিটেড: তিন মাসের ব্যবধানে লোকসানি প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রিন্টিংয়ের শেয়ারের দর বেড়েছে ২০ শতাংশ। সর্বশেষ ২০১৬ সালের আর্থিক হিসাবে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা প্রায় আট কোটি টাকা কমে গেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমে হয়েছে দুই কোটি ৩৭ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়। এর পরের বছর জটিলতার কারণে জেড ক্যাটেগরিতে চলে যায় কোম্পানিটি। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় আট কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

জানা যায়, নির্দিষ্ট সময়ে লভ্যাংশ বণ্টনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে খুলনা প্রিন্টিং।

২০১৫ সালের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যা টাকার অঙ্কে চার কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ ডিভিডেন্ড কোম্পানিটির শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বিনিয়োগকারীরা ঘোষিত ডিভিডেন্ডের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু এজিএম সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ৩০ কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশনের ২৯ ধারা অনুযায়ী ডিভিডেন্ড পরিশোধ-সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে ডিএসই এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) জমা দিতে হয়। সেটি করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হয় জেড ক্যাটেগরিতে।


শেয়ারবার্তা / শহিদৃল ইসলাম

কোম্পানী সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

উপরে