ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার কেনার গোপন তথ্য

২০১৮ মার্চ ০১ ১৫:২৯:৫৬
সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার কেনার গোপন তথ্য

অনেক আগে থেকেই ফাঁস হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয়ের মতো অতি স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় তথ্য। যা এতোদিন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নাগালের বাহিরে থাকলেও এখন আর নেই। গোপন এইসব তথ্য এখন ফেসবুকেই পাওয়া যাচ্ছে। যা বিনিয়োগকারীদেরকে নিয়ে গঠিত ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে পাওয়া যাচ্ছে। এমন একটি বিষয় ফাঁস হওয়াকে শেয়ারবাজারের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাস থেকে ডিএসই থেকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। সাধারণত লেনদেন শেষে কোন ব্রোকারেজ হাউজ কি পরিমাণ কিনছে এবং বিক্রয় করছে তা ফাঁস করা হয়। এমনকি লেনদেন চলাকালীন সময়ও এ তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শেয়ার লেনদেনের গোপন তথ্য দিয়ে অন্যরা ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে যোগ করেন তিনি।

কোন নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কোন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে কেনা হচ্ছে এবং কোন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বেচা হচ্ছে তা ফাঁস হচ্ছে। ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কেনা-বেচার তথ্য ডিএসই থেকে ফাঁস হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেখা গেছে, এনি বেগম পপি নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফাইন ফুডসের শেয়ার ক্রয়ের তথ্য ফেসবুকে ফাঁস করা হয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফাইন ফুডসের শেয়ার কিনেছে এমন ব্রোকারেজ হাউজের নাম ও পরিমানের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফাইন ফুডসের শেয়ার কেনার জন্য প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে বিএসইসির সঠিক তথ্য বের করা উচিত। এক্ষেত্রে কারা যোগসাজশ করছে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

এদিকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য প্রকাশ করে নির্দিষ্ট কোন শেয়ারে আগ্রহ তৈরি করা চক্রের লক্ষ্য হতে পারে বলে মনে করেন আজিজুল ইসলাম। এক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকে পড়লে তারা লাভবান হবেন। যা শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ হবে। এক্ষেত্রে ফাঁস হওয়া তথ্যের শেয়ারে কেনার আগ্রহ থেকে বেরিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করার জন্য বিনিয়োগকারীদেরকে পরামর্শ দেন তিনি।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা যাছাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই এর বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ারের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত থাকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই)। এর মধ্যে সিডিবিএলে বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসই তাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেন মনিটর করে থাকে।

এই চারটি প্রতিষ্ঠানের যে কোনো এক বা একাধিক জায়গা থেকে এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা টাকার বিনিমিয়ে লেনদেনের তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের স্বার্থে লেনদেনের তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত। লেনদেন ও শেয়ার ধারণের তথ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আমানত। এই আমানত রক্ষা করা সংশ্লিষ্টদের পবিত্র দায়িত্ব। যেহেতু চারটির বেশি জায়গা থেকে তথ্য ফাঁসের সুযোগ নেই, তাই ওই চারটি জায়গায় নজর দিলেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ফাঁস হচ্ছে এমন অভিযোগ শুনে আসছি। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

শেয়ার বার্তা/ জে ভি

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে