ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫

১০ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ২৩ ২৩:২৬:৫৮
১০ কোম্পানির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা

গত এক মাসে তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ভর করে। ইস্যু ৩টি হলো-ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী নির্বাচন এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়। এ সময়ে উভয় শেয়ারবাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন দেখা যায়। অন্যদিকে, পতনের বাজারেও কিছু কিছু শেয়ার দরে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন দেখা যায়।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক মাসে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৩৮টি কোম্পানির মধ্যে ১০টি কোম্পানির শেয়ার দরে অস্বাভাবিক বিপর্যয় নেমে আসে। আর গত ৩ মাসে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে আরও বেশি বিপর্যয় দেখা যায়। কোন কোন কোম্পানির শেয়ারদর অর্ধেকের বেশি উধাও হয়ে গেছে। এসব কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা অবস্থায় কালাতিপাত করছেন। কোম্পানিগুলো হলো-ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড, ফাস ফাইন্যান্স, বিবিএস কেবলস, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, দেশবন্ধৃ পলিমার, ফরচুন সুজ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, পেনসিফিক ডেনিমস, শেফার্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ এবং সাইফ পাওয়ার লিমিটেড। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর কমেছে ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোডের। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ২৫.৪২ শতাংশ। এরপর দর কমেছে ফাস ফাইন্যান্সের ২০ শতাংশ, বিবিএস কেবলসের ১৮.৮৮ শতাংশ, নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ১৮.১০ শতাংশ, ফরচুন সুজের ১৮.৪১ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের ১৭.২০ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমারের ১৬.৫৯ শতাংশ, পেসিফিক ডেনিমসের ১৩.০৮ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাষ্টিজের ১৩.৫৪ শতাংশ এবং সাইফ পাওয়ারের ১২.৩৮। গত ৩ মাসে এসব কোম্পানির শেয়ার দরে আরও বেশি বিপর্যয় দেখা গেছে।


১. ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড: শেয়ারবাজারে অভিষেকের দিন (৬ নভেম্বর ২০১৭) কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২০ টাকায় উঠে। কিন্তু পরেরদিন থেকেই কোম্পানিটি শেয়ারে ক্রমাগত পতন দেখা যায়। গত চার মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৬৫.৪২ শতাংশ। গত ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটি শেয়ারদর ছিল ৫৪.২০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারী মাত্র ১ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমেআসে ৪১.৫০ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসেই শেয়ারদর কমেছে ২৫.৪২ শতাংশ। লেনদেনের প্রথমদিকে যারা কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছেন, তাদের পুঁজির তিনভাগের দুইভাগই নেই। আরা যারা এক মাসের মধ্যে কিনেছেন, তাদের পুঁজির চারভাগের এক ভাগ নেই। বাজার সংশ্লিষ্টরা কিংবা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কোম্পানিটির অস্বাভাবিক দরপতনের কোন কারণ জানাতে পারেননি। অর্থাৎ কোন কারণ ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার দরে অস্বাভাবিক পতন নেমে এসেছে। বর্তমানে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন দরে অবস্থান করছে। কোম্পানিটির বর্তমান পিই ২২.৩১। প্রকৌশল খাতের অধীনে এটি অন্যতম সর্বনিম্ন পিই’র কোম্পানি।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারী থেকে কোম্পানিটির শেয়ার ‘এন’ক্যাটাগরি হতে উন্নীত হয়ে ‘এ’ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এটি মার্জিন সুবিধার আওতায় আসবে।

জানা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা। অন্যদিকে, চলতি হিসাব বছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯৩ পয়সা। এর আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। ইপিএস কমেছে ১০.৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ১০.৫৭ শতাংশ। আর শেয়ারদর কমছে ৬৫.৪২ শতাংশ।


২. ফাস ফাইন্যান্স: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২০.৩০ টাকা। আর ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর এসে দাঁড়িয়েছে ১৬.৪০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর কমেছে ২০ শতাংশ। আর ৩ মাসের ব্যবধানে দর কমেছে ৩৩.৩৩ শতাংশ। কোম্পানিটি বর্তমানে লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। গত বছরের চেয়ে ভালো পারফরমেন্সে থাকা এই কোম্পানির শেয়ার দরে এভাবে বিপর্যয় নেমে আসার কোন কারণ নেই বলে জানান বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, চলতি হিসাব বছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই’১৭-মার্চ’১৮ পর্যন্ত) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ২৭ পয়সা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে কোম্পানিটির আয়ে প্রবৃদ্ধি এসেছে প্রায় ১৬০ শতাংশ। গতবছর কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। এবছর লভ্যাংশের পরিমাণ বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে। এর বর্তমান পিই ১৭.৫৭।

উল্লেখ্য, কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ অনেক বেড়েছে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ছিল ১৪.৫১ শতাংশ। আর ৩১ জানুয়ারী ২০১৮ তারিখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.৫৩ শতাংশে।


৩. বিবিএস কেবলস: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০৯.৬০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে এসেছে ৮৮.৯০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে বিবিএস কেবলসের শেয়ারদর কমেছে ১৮.৮৮ শতাংশ। আর ৩ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ২৮.০১ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি থাকার পরও কোম্পানিটির শেয়ার দরে এভাবে বিপর্যয় নেমে আসার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২.১৬ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.৮৩ টাকা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩.৫৩ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.৪৭ টাকা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ২.০৬ টাকা বা ১৪০ শতাংশ। এর বর্তমান পিই ১৭.১১।

উল্লেখ্য, ১৮ জানুয়ারী হতে কোম্পানিটি ‘এন’গ্রুপ হতে ‘এ’গ্রুপে উন্নীত হয়ে লেনদেন হচ্ছে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল হবে।


৪. নাহি অ্যালুমিনিয়াম: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬১.৩০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে এসেছে ৫০.২০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে নাহি অ্যালুমিনিয়ামের শেয়ারদর কমেছে ১৮.১০ শতাংশ। গত ২৪ ডিসেম্বর কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথমদিন এর দর ছিল ৮১ টাকা ৬০ পয়সা। সেই হিসাবে ৩ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৩৮.৪৮ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিক পতনে থাকায় বাজার সংশ্লিষ্টরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।


চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ইপিএস হয়েছে ৭৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬১ পয়সা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫৩ টাকা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৯ টাকা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৩৪ পয়সা বা ২৮.৫৭ শতাংশ। এর বর্তমান পিই ১৬.৪১।

উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারী হতে কোম্পানিটি ‘এন’গ্রুপ হতে ‘এ’গ্রুপে উন্নীত হয়ে লেনদেন হচ্ছে। এপ্রিলে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল হবে।


৫. দেশবন্ধু পলিমার: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৩.৫০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী এর শেয়ারদর নেমে আসে ১৯.৬০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে বিবিএস দেশবন্ধু পলিমারের শেয়ার দর কমেছে ১৬.৫৯ শতাংশ। তবে ৩ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ৮.২৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) ইপিএস হয়েছে ২২ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ২২ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৮ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৩ পয়সা বা ৭.৮৯ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় মুনাফায় ইতিবাচক প্রবণতা থাকার পরও কোম্পানিটির শেয়ারদর নেতিবাচক প্রবণতায় থাকা উচিৎ নয় বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। এর বর্তমান পিই ২৩.৯০।


৬. ফরচুন সুজ: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩৯ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩৩.৫০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে ফরচুন সুজের শেয়ারদর কমেছে ১৪.১০ শতাংশ। আর ৩ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৪১.২০ টাকা থেকে ৩৩.৫০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৩ মাসে এর শেয়ারদর কমেছে ১৮.৬৮ শতাংশ। গত ১৬ জানুয়ারী হতে কোম্পানিটির শেয়ার ‘এন’ ক্যাটাগরি থেকে উন্নীত হয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন চলছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল শেয়ার বলে গণ্য হবে।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) ইপিএস হয়েছে ৪৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ৪৬ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৯১ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮২ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ৯ পয়সা বা ১০.৯৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় মুনাফায় ইতিবাচক প্রবণতা থাকার পরও কোম্পানিটির শেয়ার দরে বড় বিপর্যয় নেমে আসার কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা। এর বর্তমান পিই ১৮.৪১।


৭. মোজাফ্ফর স্পিনিং মিলস: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে এসেছে ১৭.২০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে মোজাফফর হোসেন স্পিনিংয়ের শেয়ারদর কমেছে ১৪ শতাংশ। ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৮.৭০ টাকা হতে ১৭.২০ টাকায় নেমে এসেছে। সেই হিসাবে ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ৪৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ৭৮ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৩ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.১৬ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস কমেছে বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা ৩৪ শতাংশ। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দরে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত সপ্তাহ থেকে কোম্পানিটির শেয়ার মার্জিনেবল হয়েছে। এর বর্তমান পিই ১৬.২৩।


৮. পেসিফিক ডেনিমস: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৯.১০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে এসেছে ১৬.৬০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে পেসিফিক ডেনিমসের শেয়ারদর কমেছে ১৩.০৮ শতাংশ। আর ৬ মাসে কোম্পানিটির দর কমেছে ২৯.৩৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ৫৪ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.০৮ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস কমেছে ৩২ পয়সা বা ২৯.৬২ শতাংশ। এ কারণে কোম্পানিটির শেয়ার দরে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর বর্তমান পিই ১০.৯২।

উল্লেখ্য, ৬ ফেব্রয়ারী হতে কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়ে লেনদেন হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ এটি মার্জিনেবল শেয়ার হিসাবে গণ্য হবে।


৯. শেফার্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৯.৫০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে আসে ২৫.৮০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে শেফার্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের শেয়ারদর কমেছে ১৩.৫৪ শতাংশ। ৬ মাস আগে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৪০.২০ টাকা। ৬ মাসে দর কমেছে ৩৫.৮২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ১২ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩০ পয়সা। এ সময়ে ইপিএস বেড়েছে ১২ পয়সা বা ২৮.৫৭ শতাংশ। বর্তমানে কোম্পানিটি ‘এন’ ক্যাটাগরি থেকে উন্নীত হয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হচ্ছে। গত সপ্তাহ থেকে এটি মার্জিনেবল শেয়ার হিসাবে গণ্য হয়েছে। এর বর্তমান পিই ৩০.৭১। উল্লেখ্য, শেফার্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি। কোম্পানিটিতে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২৫.৫৫ শতাংশ।

১০. সাইফ পাওয়ার: ২৩ জানুয়ারী কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩১.৫০ টাকা। ২২ ফেব্রয়ারী (বৃহস্পতিবার) কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে আসে ২৭.৬০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে সাইফ পাওয়ারের শেয়ারদর কমেছে ১২.৩৮ শতাংশ। আর ৩ মাস আগে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৩৫.৭০ টাকা। ৩ মাসে শেয়ারদর কমেছে ২২.৬৮ শতাংশ। ভালো পারফরমেন্সের কোম্পানিটির শেয়ার দরে ক্রমাগত বিপর্যয়ের কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বাজার সংশ্লিষ্টরা।

চলতি অর্থবছরের ২য় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়েও ছিল ৬২ পযসা। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর এক রকম ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৮ পয়সা। এর বর্তমান পিই ৩০.৭১।

উল্লেখ্য, আলোচ্য সময়ে লভ্যাংশ সংশোধনের কারণে শেয়ার দরে পতন হয় আরএকে সিরামিকসের। আর বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী লভ্যাংশ ঘোষণা না আসায় শেয়ার দরে পতন হয় লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের, আইডিএলসি ফাইন্যন্স ও গ্রীনডেল্টা ইন্সুরেন্সের। অন্যদিকে, সম্প্রতি অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পাওয়া মাইডাস ফাইন্যান্সের দর গত মাসে সংশোধনে নেমে আসে।



শেয়ারবার্তা / মামুন



সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে