ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮, ৭ আষাঢ় ১৪২৫

সিএসই‘র কৌশলগত অংশীদার হচ্ছে দুবাইভিত্তিক কনসোর্টিয়াম!

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ ২০:৪২:৪২
সিএসই‘র কৌশলগত অংশীদার হচ্ছে দুবাইভিত্তিক কনসোর্টিয়াম!

নানা আলোচনা -সমালোচনা পর সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত অংশীদার হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি ডিএসই সংশ্নিষ্টদের জন্য সুখবর হলেও কিছুটা বিপাকে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। কেননা সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ প্রথমে সিএসইর অংশীদার হতে বেশি আগ্রহী ছিল। আলোচনাও অনেকদুর এগিয়েছিল। প্রাথমিক দরপ্রস্তাবও দিয়েছিল। কিন্তু ডিএসইর পার্টনার হওয়ার পর সিএসই এখন সাংহাইকে অংশীদার হিসেবে পাওয়ার আশা অনেকটা ছেড়ে দিয়েছে। এর বদলে দুবাইভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের দিকে এখন তারা নজর রাখছে।

সিএসইর অপর এক সূত্র জানিয়েছে, হংকংভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামকেও কৌশলগত অংশীদার করতে কাজ করছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। এ কনসোর্টিয়ামের বাংলাদেশে অন্য ব্যবসা রয়েছে। মাঝে কনসোর্টিয়ামকটির সঙ্গে যোগাযোগ কমে গিয়েছিল। সাংহাই আসবে না ধরে নিয়ে এ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ শুরু করেছে।

তবে দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের (জোট) সঙ্গে আলোচনা সবচেয়ে এগিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এ কনসোর্টিয়ামে আছে সৌদি আরর, কাতার ও দুবাইয়ের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে সিএসইর একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য দুবাইয়ে অবস্থান করছে।

জানা যায়, এখন পর্যন্ত আগ্রহীদের কাছ থেকে কোন দরপ্রস্তাব নেয়নি সিএসই। প্রাথমিক আলোচনায় দুবাইয়ের কনসোর্টিয়ামটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ১৭ টাকা দরপ্রস্তাব করেছে। সিএসইর মোট শেয়ার ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৪০। এর ২৫ শতাংশের জন্য কনসোর্টিয়ামটি ২৬৯ কোটি টাকা দিতে চায়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক উন্নয়নে সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছে।

সিএসইর শীর্ষস্থানীয়রা সাংহাই ডিএসইর অংশীদার হওয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে জানান, শুধু ভালো অংশীদার হাতছাড়া হওয়া নয়, অনেকটা `কপাল`ও পুড়েছে তাদের। মাত্র ২২ টাকা দরে চীনের সাংহাই ও সেনজেনের কাছে শেয়ার বিক্রি করতে ডিএসই রাজি হওয়ায় মাথায় হাত তাদের। কেননা সাংহাই ২৭ টাকা দরে সিএসইর শেয়ার কিনতে রাজি ছিল।

সিএসইর এক পরিচালক বলেন, ডিএসই এত কম দামে শেয়ার বিক্রি করায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। ডিএসইর শেয়ারদর যদি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় উঠতো তাহলে সিএসইর কিছুটা বেশি দর পাওয়ার সুযোগ হতো।

এ বিষয়ে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, `‘সিএসইর তুলনায় ডিএসইর অবস্থান সবদিক থেকেই ভালো। ফলে ডিএসই ২২ টাকা দরে শেয়ার বিক্রিতে রাজি হওয়ায় সিএসইর থেকে বেশি দর পাবে না। এই বাস্তবতায় আগ্রহীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সিএসই সূত্র জানায়, ডিএসইর আগেই সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে সিএসইর যোগাযোগ হয়। চীনা স্টক এক্সচেঞ্জটির কর্মকর্তারা চট্টগ্রামও সফর করেন। পরে সেনজেনের সঙ্গে কনসোর্টিয়াম করে ডিএসইর শেয়ার কিনতে দরপ্রস্তাব করে। এতে সিএসইর সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা কমলেও বন্ধ হয়ে যায়নি। আগের আগ্রহ বহাল আছে কি-না, এমন প্রশ্নে এক পরিচালক জানান, গত সপ্তাহেও তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখনও তারা ‘না’ বলেনি। স্টক এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান উ চিং-এর মেয়াদ কিছুদিনের মধ্যে শেষ হচ্ছে। নতুন চেয়ারম্যান এ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তাদের জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘এ মুহূর্তে দুবাইভিত্তিক কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে। তারা মানি ম্যানেজমেন্ট ব্যবসায় আছে। বর্তমান সরকারের সঙ্গেও তাদের সুসম্পর্ক আছে। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের; বিশেষত সৌদি আরব, ইরাক, ইরানসহ অন্য সব দেশের ব্যবসায়ীরা অনেক অলস অর্থ নিয়ে বসে আছে। তারা ভালো ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে। তিনি বলেন, এদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হলে দেশে ভালো বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগ হবে। তবে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে শুধু বিদেশি নয়, দেশেও ভালো প্রতিষ্ঠানকে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় আছে’ বলে জানান তিনি।

সিএসই সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত অংশীদার নির্বাচন প্রশ্নে সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য আগামী ১ মার্চ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক আহবান করা হয়েছে। তার আগে আগামী সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠক করবেন সিএসইর নীতিনির্ধারকরা।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে