ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত

যে কারণে পিছু হটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ ০৭:২৭:৪৬
যে কারণে পিছু হটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক


ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিং থামাতে গত ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ-আমানত অনুপাত সীমা পুনর্নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে ৩০ জুনের মধ্যে ঋণ-আমানত অনুপাত নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের টানাটানি শুরু হয় যায়। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শেয়ারবাজারেও।

পরিস্থিতি নাজুক অবস্থায় চলে গেলে পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্টরা দফায় দফায় বৈঠক করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রিয় ব্যাংকের কাছে এডিআর ইস্যু শিথিল করার দাবী জানায়। অন্যদিকে, ব্যাংক সংশ্লিষ্টরাও সরব হয়ে উঠে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দেন-দরবার শুরু করে দেয়।

গত রোববার অগ্রণী ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ৫৭ ব্যাংকের মধ্যে ৩৮ ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) সীমার নিচেই আছে। অযথাই বলা হচ্ছে, ঋণসীমা সমন্বয়ের কারণে বড় প্রভাব পড়বে। নতুন নিয়মের ফলে ১১ হাজার কোটি টাকার আমানত লাগবে। এর মধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, বাংলাদেশ কৃষি, বেসিক ও ফারমার্স ব্যাংকেরই ৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি বেসরকারি ১৫ ব্যাংকের লাগবে ৫ হাজার কোটি টাকা। আগ্রাসী ঋণ বিতরণ বন্ধ, ঋণের মান ভালো ও ঋণশৃঙ্খলা নিশ্চিতে ঋণসীমা কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার বাড়তে শুরু করেছে, এটা আমানতকারীদের জন্য ভালো। তবে ঋণের সুদহার বাড়াটা ভালো নয়।

পরিস্থিতি সামলাতে গর্ভণর অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এতে ব্যাংক খাতে ও পুঁজিবাজারে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সরকারকেও ভাবিয়ে তোলে। জানা যায়, কড়াকড়ি আরোপের ২১ দিনের মাথায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পিছু হটেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন ঋণসীমা পরিপালনের সময়সীমা ৩০ জুনের পরিবর্তে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পুনর্নির্ধারণ করা হলো। এ ক্ষেত্রে গত ৩০ জানুয়ারি বা তার আগে গ্রাহককে দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরাসরি ঋণে (ফান্ডেড) পরিণত হওয়ার কারণে ঋণসীমা বেড়ে গেলেও তা নির্দেশনার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে না।


এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, এর ফলে ব্যাংকগুলোতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, তা নিরসন হবে। ব্যাংকগুলো ঋণসীমা সমন্বয়ে যথেষ্ট সময় পেল। ফলে সুদহার বাড়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা কমবে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, মুদ্রানীতি ঘোষণার আগে থেকেই ‘সংকোচিত মুদ্রানীতি আসছে’-এ খবরে ব্যাংক খাতে ও পুঁজিবাজারে সংকট তৈরী হতে থাকে। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্টি এটিকে কাজে লাগিয়ে সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে সেই সংকটেরও সমাধান হবে। ফলে ব্যাংক খাতে এবং পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।

ডিএসই’র সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী ও ব্যাংকের এডিআর রেশিওকে কেন্দ্র করেই পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্ম। দুটি সমস্যারই সমাধান হয়েছে। এখন পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা থাকার অন্য কোন উপসর্গ নেই। পুঁজিবাজার স্বাভাবিক গতিতে এগুবে।

জানা যায়, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে ৮৫ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারত। গত ৩০ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ইসলামি ধারার ব্যাংক আগে ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৯০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারত, নতুন নির্দেশনায় যা ৮৯ টাকা করা হয়। যেসব ব্যাংকের ঋণ নতুন সীমার বেশি রয়েছে, তারা তা সমন্বয় করতে পাঁচ মাসের মতো সময় পেয়েছিল।

এই অল্প সময়ের কারণে ঋণ আদায় ও নতুন আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো অর্থ সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিছু ব্যাংক আমানতের সুদের হার ৯ শতাংশে উন্নীত করে। এতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সরকারি অনেক সংস্থাও বেসরকারি ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়া শুরু করে।


শেয়ারবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে