ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮, ৮ আষাঢ় ১৪২৫

২০১৮ সালে পুঁজিবাজারের গতি বদলে যাবে

২০১৮ ফেব্রুয়ারি ০২ ১১:৪৩:১০
২০১৮ সালে পুঁজিবাজারের গতি বদলে যাবে


চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার চলতি বছরকে পুঁজিবাজারের জন্য বেশ ইতিবাচক মনে করছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারের গতি বদলে যাবে।

সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারের জন্য বেশ কিছু নতুন পণ্য পাইপলাইনে আছে। যার কয়েকটি ২০১৮ সালেই চালু হওয়ার কথা। বিশেষ করে ইটিএফ এবং স্মলক্যাপ দ্বারপ্রান্তে আছে। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে আইটি ও অবকাঠামোগত কাজ শেষ পর্যায়ে। রেগুলেটরি কাজও শেষ পর্যায়ে। তারপরও মাঝে মাঝে বাজারে যে অস্থিরতা দেখি,তার মূল কারণ- বাজারের গভীরতা না থাকা। ২০১৮ সালে নতুন পণ্য চালু করার প্রক্রিয়ায় কতটুকু এগুতে পারছি; অন্যদিকে স্মলক্যাপ চালু করলে তার সাড়া কতটুকু পাচ্ছি; একই সঙ্গে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সহযোগিতা কতটুকু পাচ্ছি, বিশেষ করে সরকারি কোম্পানি,বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশি ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে কী পরিমাণ সহযোগিতা করছে সরকার-তার উপর নির্ভর করবে বাজারের গতিপ্রকৃতি। তবে আগে নির্বাচনী বছরে কোনো কোনো সময় যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, আমার মনে হয় এবার ওই ধরনের অস্থিরতা হবে না।

বাজার গভীরতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন কোম্পানি পুঁজিবাজারে এলে বাজার গভীরতা বাড়বে। এর জন্য আমরা ফরমালি ও ইনফরমালি দেশের বড় বড় গ্রুপগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছি। সিএসই আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ক্যাপিটাল মার্কেট ফেয়ার করতে যাচ্ছি, সেখানে উদ্যোক্তাদের জন্য একটি দিন রাখা হয়েছে। সেখানে বর্তমানে বাজারে যারা আছেন, তাদের প্রতিনিধিও থাকবেন, আবার যাদের কোম্পানি বাজারে নেই তাদের প্রতিনিধিও থাকবেন। ওই সেমিনারে রেগুলেটরি পর্যায়ের লোকজনও থাকবে।উদ্যোক্তারা তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরলে রেগুলেটরি পর্যায়ের প্রতিনিধিরা তা শুনে সমাধানের পথ খুঁজবেন বলে মনে হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। একটি কোম্পানি বাজারে আসলে যেমন তাদের প্রাইসিংয়ের প্রয়োজন আছে, তেমনি তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বেড়ে যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে যটুকু মটিভেশন পাওয়া প্রয়োজন, তার ঘাটতি আছে। সেগুলো বিভিন্ন সময়ে আমরা তুলে ধরেছি। উদ্যোক্তাদের মটিভেট করা পলিসিম্যাকারদের দায়িত্ব। মটিভেটেট হওয়ার মত পলিসি প্রয়োজন। শুধু আয়করে ১০ শতাংশ ছাড়ই যথেষ্ট না। এটি শুধু আমরা যারা পুঁজিবাজার নিয়ে কাজ করি তাদের একার ইস্যু না। সরকারেও ইস্যু। সরকার পুঁজিবাজারে কত কোম্পানি তালিকাভুক্ত দেখতে চায়, জিডিপিতে এর অবদান কেমন চায়-সেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। সবাই মিলে পুঁজিবাজারকে কোন জায়গায় আনতে চায়, তার একটি ভিশন থাকতে হবে।

সিএসইর স্ট্রাটেজিক পার্টনারের বিষয়ে সাইফুর রহমান বলেন, ব্যবস্থপনা থেকে মালিকানা আলাদা করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ট্রাটেজিক পার্টনার খুঁজে নেওয়া। এর জন্য ২০১৫ সালে এক বছর সময় দিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। পরে ৬ মাসে করে আরও দুই বার সময় বাড়িয়েছে কমিশন। যা আগামী মার্চ মাসের ৮ তারিখ শেষ হচ্ছে। সিএসইর পক্ষ থেকে বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান করেছি। সে ক্ষেত্রে আমরা কিছু সাড়া আমরা পেয়েছি, কিন্তু কোনোটাই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক একটি কিছু হবে বলে আমরা আশা করছি। তবে এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। কমিশনে একটি ভিউ হলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা। এটির সঙ্গে আমিও একমত। এর জন্যই দেরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিএসইর কস্ট তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথক হওয়ার পরে ২০১৭ জুনে অপারেশআল আয় দিয়ে ব্রেকইভেন পার করতে পেরেছি। অন্য আয় মিলে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পেরেছি। অপারেটিং প্রফিট এক্সচেঞ্জ আগেও করেছে, তবে সেটিগুলো ছিল গত ৫ বছরের আগে। যে সময় অনেক বেশি লেনদেন হতো। অপারেটিং প্রফিটের একটি পর্যায়ে আছে। এখন মূল লক্ষ্য হলো লেনদেনে অংশগ্রহণ বাড়ানো। যারা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক ব্যবহার করছে তাদের একটি বড় অংশ হলো নন-প্রফেশনাল। ব্রোকারেজ ব্যবসা করতে হলে একটি স্ট্যান্ডার্ড অফিস, সফটওয়্যার, আইটি সিস্টেমস এবং এইচআর লাগবে। এটি মাথায় নিয়ে যারা কাজ করছে তারা ভালো ব্যবসা করছে। কিন্তু সিএসইর একটি বড় অংশ এই কাজগুলো করছে না।

দ্বিতীয়টি হলো যাদের দুই জায়গায় ট্রেক আছে তারা মূলত ডিএসইতে বেশি লেনদেন করে। এর মূল কারণ হলো একই পণ্য এবং রেগুলেটরি পরিবর্তনের কারণে। তবে আয় বাড়ানোর জন্য আমরা নতুন ইউনিক কিছু পণ্য চালু করার চিন্তা করছি। কমিশনের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

নুতন পণ্যের বিষয়ে কমিশনে আমরা স্ক্রিপ্ট নেটিংয়ের সুযোগ চেয়েছি। এটি আন্তর্জাতিভাবে চালু আছে। ডে সেটেলমেন্ট সিসটেম। এ বিষয়ে প্রথমে ডিএসই রাজী না থাকলেও এখন তারা একমত।

আর লেনদেনের সময়ের বিষয়ে কমিশনের ভিউ হলো দুই এক্সচেঞ্জেই একই সময় থাকবে। কমিশন যেহেতু চাচ্ছে, সেখানে আমরা একটি ফরমুলা তৈরি করেছি। তবে ক্লোজিং প্রাইজ ট্রেড নিয়ে একটু সমস্যা আছে। ক্লোজ ট্রেডিং সিএসইতে ৫ মিনিটের মত আছে। এর আগে ডিস্ট্রিভিউশনের জন্য কয়েক মিনিট সময় লাগে। সেখানে ডিএসইর সফটওয়ারের কারণে কিছু ভিন্নতা আছে। সেটি এক হলে আর কোনো সমস্যা নেই। দুই এক্সচেঞ্জেই ট্রেডিং সময় এক হতে হবে বলে আমার মনে হয় না। এক্সচেঞ্জ আলাদা, ট্রেডিং সময়ও আলাদা হতে পারে।


শেয়ারাবার্তা / মামুন

সংবেদনশীল তথ্য এর সর্বশেষ খবর

উপরে